নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পরই নতুন পরিচয়ের পথে হাঁটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন শিবির। আসন্ন উপনির্বাচনের আগে কমিশন স্পষ্ট করেছে, আপাতত কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশের পর মমতা শিবির দ্রুত বিকল্প নামের তালিকা জমা দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, তিনটি নামের মধ্যে রয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ এবং ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে ইমেলের মাধ্যমে এই পছন্দগুলি কমিশনকে জানানো হয়।
নামগুলির ক্ষেত্রে ‘মমতা’ এবং ‘তৃণমূল’ দুই শব্দই রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে দলের পরিচিতির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও যুক্ত থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন নাম কমিশন অনুমোদন করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই শিবিরের জমা দেওয়া বিকল্পগুলির মধ্য থেকে উপনির্বাচনের জন্য নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
জোড়াফুলের বদলে কোন প্রতীক?
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহারের সুযোগ নেই। মমতা শিবিরের তরফে বিকল্প হিসেবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ এবং ‘ব্যাট’ প্রতীকের পছন্দ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন শিবিরও নিজেদের পছন্দ কমিশনকে জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত নামের মধ্যে রয়েছে ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীকের ক্ষেত্রে ‘খাম’, ‘টর্চ’ এবং ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ এই তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন এমন সিদ্ধান্ত কমিশনের?
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীই দলের নাম ও প্রতীকের উপর নিজেদের দাবি জানিয়েছে। সেই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনই সম্ভব না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দুই পক্ষকেই আলাদা পরিচয়ে উপনির্বাচনে লড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট উপনির্বাচন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে কমিশনের নির্দেশে জানানো হয়েছে।
অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে তাই নতুন নাম ও প্রতীকের লড়াইও এখন বাংলার রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয়। তবে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মমতা শিবিরের জন্য কোন নাম এবং কোন প্রতীক বরাদ্দ হবে, তা নিয়ে জল্পনা থেকেই যাচ্ছে।