কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নতুন মোড়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে বিকল্প দলীয় নাম এবং প্রতীকের প্রস্তাব পাঠাল রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে কোন নাম ও প্রতীক নিয়ে তারা লড়বেন, তা এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
ঋতব্রতপন্থী শিবিরের তরফে দুটি সম্ভাব্য দলের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে,‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। একইসঙ্গে তিনটি নির্বাচনী প্রতীক চাওয়া হয়েছে। সেগুলি হল ‘খাম’, ‘টর্চ’ এবং ‘ব্ল্যাকবোর্ড’। এখন এই প্রস্তাবগুলির মধ্যে কোন নাম ও প্রতীক অনুমোদন করা হবে, তা ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন।
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কমিশনের তরফে সম্ভাব্য নাম ও প্রতীকের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই দলের পক্ষ থেকে দুটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এবার কমিশনই চূড়ান্তভাবে জানাবে কোন নাম এবং কোন প্রতীক তাদের বরাদ্দ করা হবে।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত তৃণমূলের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি-পাল্টা দাবি চলছিল। বৃহস্পতিবার কমিশন এই বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত কোনও পক্ষকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। একইসঙ্গে দুই পক্ষই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে তৃণমূলের দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীকে লড়াই করতে হবে। উপনির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতীক ও দলীয় নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দুই শিবিরের কাছেই কমিশনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে বলে খবর। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর শিবিরের প্রস্তাবিত নাম ও প্রতীক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
ফলে এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। ঋতব্রতদের প্রস্তাবিত ‘খাম’, ‘টর্চ’ ও ‘ব্ল্যাকবোর্ড’-এর মধ্যে কোন প্রতীক বরাদ্দ হয়, নাকি কমিশনের পক্ষ থেকে অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।