বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া: শাড়ির আড়ালে লুকিয়ে ছিল বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের ছক। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। এক যুবকের শাড়ি পরে সন্দেহজনক গতিবিধির সূত্র ধরে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তৎপরতায় জালে ধরা পড়ল চার বাংলাদেশি নাগরিক। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের প্রথমে রঘুনাথপুর ও পরে পুরুলিয়া টাউন থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। ইতিমধ্যেই তাদের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। দুপুর আনুমানিক ১২টা নাগাদ পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের শালকা হাসপাতাল রোডের পাশে শাড়ি পরিহিত এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং রঘুনাথপুর থানার পুলিশকে খবর দেন। এরপর বিকেল সোয়া ৪টে নাগাদ স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশি জেরায় জানা যায় ধৃতের নাম মহম্মদ তৌহিদ মণ্ডল (পিতা মহম্মদ তারিকুল মণ্ডল)। তার বাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার হাবাসপুর গ্রামে। জেরার মুখে তৌহিদ স্বীকার করে, গত ১ সেপ্টেম্বর নদীয়া জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তারা কয়েকজন ভারতে প্রবেশ করেছিল।
তৌহিদ মণ্ডলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরুলিয়া টাউন থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ বাহিনী। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় তাদের দলের বাকি তিন বাংলাদেশি নাগরিককে। আটক ব্যক্তিরা হলো মো. জাহিদ ইমন (পিতা শরিফুল ইসলাম, সাকিন চরকিবাড়ি, পোস্ট কাচারিপাড়া, জেলা রাজবাড়ী, বাংলাদেশ), সুমন শেখ (পিতা মো. গাজির উদ্দিন শেখ, সাকিন কোমরভোগ, পোস্ট আইজল, জেলা কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ), শান্ত হোসেন (পিতা মো. শশিম, সাকিন খোকসা বাঁধপাড়া, জানিপুর, জেলা কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ)।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃত চারজনকেই বর্তমানে সরকারি নিয়মানুযায়ী ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (Repatriation) যাবতীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ ইতিমধ্য়েই নেওয়া হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে নদীয়া থেকে প্রত্যন্ত জেলা পুরুলিয়ায় এসে শহরের ভেতর ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা কীভাবে ঘাঁটি গাড়ল এবং এর নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক চক্র বা দালাল সক্রিয় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।