নিউজ ডেস্ক: পুরুলিয়ার জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা নতুন নয়। রঘুনাথপুর-সাঁওতালডিহি থেকে বাঘমুণ্ডি-ঝালদা, বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই শিয়াল দেখা যায়। তবে গত এক বছরে শিয়ালের উপদ্রব নিয়ে আতঙ্ক বেশি করে বেড়েছে। এর মধ্যেই শিয়ালের কামড়ে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার।
জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ঝালদা বনাঞ্চলে শিয়ালের কামড়ে মৃত্যু হয় ইচাগের বাসিন্দা প্রমীলা রজকের। ঘটনার পর বনদফতরের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, পরিবারের একজনকে চাকরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রমীলার ছেলে জিতেন্দর রজককে ঝালদা বনাঞ্চলেই ফরেস্ট ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজে নেওয়া হবে। মাসে ১২ হাজার টাকা বেতন পাবেন তিনি।
রাজ্য বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে পুরুলিয়া বনবিভাগের ঝালদা, কোটশিলা, বাঘমুন্ডি ও কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের রঘুনাথপুর, কাশীপুর বনাঞ্চল মিলিয়ে শিয়ালের আঁচড় ও কামড়ে জখম হয়েছেন একশোর বেশি। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। যার ফলে শিয়ালের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে শিয়াল। এমনকি শুধু রাতের বেলা নয় দিনের বেলাতেও লোকালয়ে আনাগোনা থাকে। বনদফতরের পক্ষ থেকেও জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিয়াল বা অন্য কোনও বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকলে তাকে বিরক্ত না করে বনদফতরকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে শিয়ালের কামড় বা আঁচড় মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। রেবিস বা জলাতঙ্ক রোগ, শিয়াল জলাতঙ্ক রোগের প্রধান বাহকগুলোর একটি। যদি কোনও জলাতঙ্ক আক্রান্ত শিয়াল মানুষকে কামড়ায়, তবে লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই মারাত্মক ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে প্রাণঘাতীও হতে পারে।
এছাড়াও শিয়ালের মুখে এবং নখে নানা ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। তাই শিয়াল কামড়ালে ক্ষতস্থানটি দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান বা পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেবিস ভ্যাক্সিন ইনজেকশন নিতে হবে।