দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: এক রাতের ঘটনা অথচ তার রেশ কাটেনি বছরের পর বছর। সময় এগিয়েছে, বদলেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কিন্তু একটি প্রশ্ন যেন একই জায়গায় থমকে ছিল। সেই পুরনো ঘটনার তদন্তে এবার সামনে এল নতুন অধ্যায়। এতদিন পর পুরনো মামলার নথিতে ফের নড়ে চড়ে বসলো সেই ঘটনা। তদন্তের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আদালতে জমা পরল এমন একটি নথি, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। পুরনো রহস্যের পর্দা এবার ধীরে ধীরে সরছে।
ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি এলাকার। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতের। কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামের বাসিন্দা সিপিএম সমর্থক দম্পতি দেবু দাস ও তাঁর স্ত্রী উষারানী দাস নিজেদের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। দীর্ঘ আট বছর পর সেই মামলায় আদালতে চার্জসিট জমা দিল হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং জমি দখলকে কেন্দ্র করেই এই হামলার সূত্রপাত। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সিপিএম কর্মী দম্পতির ওপর প্রথমে ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এবং পরে কেরোসিন ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্য তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মামলার তদন্ত চালায় তদন্তকারী দল। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চার্জশিটে রাজনৈতিক কারণের কথাও উল্লেখ করেছে SIT। তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগে বুধাখালি বুথের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল ওই হামলা। নিহত দম্পতি সিপিএমকে সমর্থন করতেন এবং তাঁদের ভোট দেওয়া নিয়েও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে চার্জসিটে উল্লেখ রয়েছে।
এই মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনই তৃণমূল কর্মী সমর্থক বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে কয়েকজন অভিযুক্তের মোবাইলের কল ডিটেলস ও টাওয়ার লোকেশনও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের সঙ্গে তাঁদের অবস্থানের সম্পর্ক তদন্তকারীরা সংগ্রহ করেছেন।
তবে, তদন্ত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। পলিগ্রাফ পরীক্ষা সহ কয়েকটি রিপোর্ট হাতে না আসায় পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও SIT জানিয়েছে। চার্জশিটে কারও নাম থাকা মানে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দায় নির্ধারিত হবে। দীর্ঘ আট বছর পর চার্জশিট জমা পরায় এখন নজর কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে।