নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফের বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীর দিন বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনীকে বক্সায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন।
বাঘিনীকে সরাসরি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রথমে তাকে বিশেষ এনক্লোজারে রাখা হবে, যাতে নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারে। তার স্বাস্থ্য, আচরণ এবং অভিযোজন ক্ষমতার উপর বিশেষজ্ঞরা নজর রাখবেন। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর উপযুক্ত সময়ে তাকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় বক্সা ও সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেরাদুনের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (NTCA) প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকছেন। বাঘিনীকে নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য বিশেষ খাঁচা ও অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য কয়েকটি বাঘিনীকে চিহ্নিত করে তাদের গতিবিধি, বয়স, স্বাস্থ্য ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন মাপকাঠি এবং NTCA-র নির্দেশিকা মেনেই শেষ পর্যন্ত একটি বাঘিনীকে বেছে নেওয়া হবে।
বক্সায় পৌঁছনোর পরও নজরদারি চলবে। বাঘিনীর গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য তার গলায় রেডিও কলার পরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বক্সার আশপাশের গ্রাম ও চা-বাগান এলাকায় সচেতনতা প্রচার শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য মানব-বাঘ সংঘাত মোকাবিলায় র্যাপিড রেসপন্স টিম তৈরির কাজও চলছে।
বক্সায় বর্তমানে স্থায়ী বাঘের উপস্থিতি খুবই সীমিত হলেও অসম ও ভুটানের দিক থেকে বাঘের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রাকৃতিক সংযোগকে কাজে লাগিয়ে বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে আরও বাঘ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
অর্থাৎ, ২ অক্টোবর শুধু একটি বাঘিনীকে নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার দিন নয় বক্সার জঙ্গলে বাঘের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে চলেছে।