নিউজ ডেস্ক: ভারত-চিন সীমান্তের অদূরে, উত্তরাখণ্ডের কনকনে ঠান্ডা আর দুর্গম পাহাড়ি খাঁজে তখন বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। এক লহমায় দেখলে মনে হবে হয়তো কোনও সাই ফাই ছবির দৃশ্য। কিন্তু বাস্তব আসলে তার চেয়েও রোমাঞ্চকর। ভারত এবং আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’-এর ২২তম সংস্করণে এবার এক নজিরবিহীন রণকৌশল দেখল বিশ্ব।
আউলির ফরেন ট্রেনিং নোডে আয়োজিত একটি বিশেষ ‘বিল্ডিং ক্লিয়ারেন্স’ অর্থাৎ বহুতল জঙ্গি-মুক্ত করার মহড়ায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করল দুই দেশের সেনা। তবে এই লড়াইয়ের আসল আকর্ষণ ছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। যেখানে রক্তমাংসের জওয়ানদের পাশাপাশি শত্রু দমনে প্রথম সারিতে দেখা গেল যান্ত্রিক কুকুর ও ড্রোনের চোখধাঁধানো মেলবন্ধন।
দেখুন: https://x.com/sidhant/status/2100474077349900586
এ দিনের ড্রিলে ফুটে ওঠে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের এক চরম বাস্তব রূপ। বহুতলে লুকিয়ে থাকা কাল্পনিক জঙ্গিদের অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে প্রথমেই আকাশে ওড়ানো হয় নজরদারি ড্রোন। একই সঙ্গে ঘরের ভেতরের অদৃশ্য কোণ এবং মাইন বা বিস্ফোরকের ফাঁদ পরীক্ষা করতে ভেতরে পাঠানো হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চার পায়ের রোবোটিক ডগ।
জওয়ানরা ভিতরে ঢোকার আগেই এই যান্ত্রিক কুকুর গোটা বাড়ির ভেতরের মানচিত্র ও শত্রুদের গতিবিধির লাইভ ফিড পাঠিয়ে দেয় কন্ট্রোল রুমে। প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তির এই মেলবন্ধন মানুষের জীবনহানির ঝুঁকি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
আবার প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেই নিখুঁত নিশানা আর পেশাদারিত্বের নজির গড়লেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্নাইপাররা। উঁচু পাহাড়ের আড়ালে পজিশন নিয়ে গোটা চত্বরকে কড়া নজরদারিতে মুড়ে রেখেছিলেন তাঁরা, যাতে একটি শত্রুও কোনোভাবে পালাতে না পারে। যান্ত্রিক কুকুরের পাশাপাশি ড্রিলে অংশ নিয়েছিল সেনার বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কে-নাইন স্কোয়াডের আসল শিকারি কুকুররাও।
ঘরের ভেতরে চূড়ান্ত আকস্মিক হানার সময়ে মার্কিন সেনার এলিট ‘ইলেভেন্থ এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর জওয়ানদের সঙ্গে একযোগে অপারেশন চালায় ভারতীয় পদাতিক বাহিনী। মুহূর্তের মধ্যে কাল্পনিক শত্রুদের পরাস্ত করে মুক্ত করা হয় পুরো আবাসন।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ শুধুমাত্র দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রদর্শন নয়। বরং এটি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের এক আগাম রূপরেখা। আউলির মতো রুক্ষ, উচ্চ-অক্ষাংশের পাহাড়ি এলাকা এবং রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের মরুভূমিতে একযোগে চলা এই মহড়ায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ১,২০০ জওয়ান।
এ বারের অনুশীলনে ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার নিখুঁত কামান দাগার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ের নজরদারির সীমানার মধ্যেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হাই-টেক রণকৌশল প্রদর্শন এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।




