নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনের একদিন আগেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চমক দিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। ১৬ সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে মোদীর সঙ্গে তাঁর পুরনো দু’টি ছবি পোস্ট করে আগাম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান আসানসোলের সাংসদ। কেন একদিন আগেই শুভেচ্ছা, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
এক্স-এ শত্রুঘ্ন লেখেন, পরের দিন শুভেচ্ছার বন্যায় তাঁর বার্তা হারিয়ে যেতে পারে, তাই আগেভাগেই শুভেচ্ছা জানালেন। মজার ছলেই প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন করেন—এই পরিকল্পনা কেমন লাগল ‘স্যরজি’? এরপর মোদীকে ‘আমাদের বন্ধু, সমাজের বন্ধু’ বলে উল্লেখ করে তাঁর সুস্বাস্থ্য, ভালোবাসা, সুখ, শান্তি এবং দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন।
শত্রুঘ্নের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। কারণ, বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ এবং আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত প্রতিনিধি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী বিজেপির শীর্ষ নেতা। ফলে ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে থাকা দুই পুরনো সহকর্মীর মধ্যে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের এই প্রকাশ স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।
তবে শত্রুঘ্নের রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ এবং বহু বাঁক পেরিয়েছে। একসময় বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন তিনি এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন। পরে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে জয় পান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি।
তাঁর আগাম শুভেচ্ছাবার্তায় অবশ্য কোনও রাজনৈতিক ঘোষণা বা দলবদলের কথা নেই। বরং নিজের পোস্টে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা এবং প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর কথাই বলেছেন শত্রুঘ্ন। ফলে পোস্টটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, তাঁর প্রকাশ্য বার্তায় মূল বিষয় ছিল জন্মদিনের শুভেচ্ছাই।
১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন হয়েছে। তার আগের দিন শত্রুঘ্ন সিনহার এই ব্যতিক্রমী শুভেচ্ছা তাই জন্মদিনের আবহে আলাদা করে নজর কেড়েছে।