নিউজ ডেস্ক: টর্নেডোর তাণ্ডবে ফের বিপর্যস্ত আমেরিকার অঙ্গরাজ্য মিসৌরি। উত্তর-পশ্চিম মিসৌরির ইউনিয়নভিল এলাকায় আছড়ে পড়ে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। মুহূর্তের মধ্যেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ছিঁড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের তারও। ফলে বিদ্যুৎ নেই একাধিক এলাকায়। ঝড়ের দাপটে গাছপালা ভেঙে পড়ারও খবর মিলেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারীদের দল। এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না মিললেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে।
টর্নেডোর পাশাপাশি মিসৌরির উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জাতীয় আবহাওয়া দফতর বা এনডব্লিউএস একাধিক এলাকায় জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। শুধু মিসৌরি নয়। পার্শ্ববর্তী আইওয়া এবং নেব্রাস্কার কিছু এলাকাতেও টর্নেডো-সহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের সঙ্গে প্রবল হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে বিপত্তি তৈরি হতে পারে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঝড়ের সময় অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেখুন: https://x.com/AnaRusuwafu/status/2099760926744260672?s=20
ঝড়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ, টর্নেডোর সতর্কতা জারি হলে দ্রুত কোনও শক্তপোক্ত ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়তে হবে। সম্ভব হলে বেসমেন্ট বা মাটির নীচের ঘরে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সেই সুযোগ না থাকলে বাড়ির সবচেয়ে নিচের তলায় জানালাবিহীন ছোট কোনও ঘর—যেমন বাথরুম, স্টোররুম কিংবা মাঝের করিডোরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানালা-দরজা থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখতে হবে শক্ত কোনও বস্তু দিয়ে, যাতে ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষে আঘাতের আশঙ্কা কমে।
তবে ঝড়ের সময় গাড়ির ভিতরে থাকা বা হাইওয়ের ওভারপাসের নীচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করা হয়েছে। ওভারপাসের নীচে বাতাসের গতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাই গাড়িতে থাকলে নিরাপদ কোনও শক্ত ভবনে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। নতুন করে টর্নেডো বা ঝড়ের সতর্কতা জারি হলে বাসিন্দাদের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




