নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের আন্দোলন আরও জোরদার করতে এবার অভিনব কর্মসূচি নিল বিরোধী জোট INDIA। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি শুরু করল ইন্ডিয়া জোট। শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা। সেখানে কার্যত ‘জনতার আদালতে’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরলেন বিরোধী নেতারা। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জন মহাভিযোগ’।
প্রথমে শুক্রবার এই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে তা একদিন পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির রাজাজি মার্গের বাসভবনে বসে এই বিশেষ অধিবেশন। প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষ। ডেপুটি চেয়ারম্যানের ভূমিকা পালন করছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ।
অধিবেশনের সূচনায় মীরা কুমার ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল অবাধ ভোটদান। কোনও একজন নাগরিকও যদি ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এরপর খাড়গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব পেশ করেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে INDIA জোট। তাঁদের দাবি, ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন খাড়গে। তিনি বলেন, সমাজের দুর্বল অংশের মানুষ, মহিলা এবং তরুণদের ভোটাধিকার যাতে কোনওভাবেই কেড়ে নেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লিতে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি যেন কম্পিউটারের মাধ্যমে গোপনে দুর্বল শ্রেণির মানুষ, মহিলা এবং তরুণদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দিতে না পারেন, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে'। যদিও বিরোধীদের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীর দাবি, রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবেই এই আয়োজন। রাহুল গান্ধীকে নতুন করে রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।




