নিউজ ডেস্ক: বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিশুদের নিরাপত্তার চূড়ান্ত কঙ্কালসার চেহারা ফের সামনে এল হরিয়ানার পাঁচকুলায়। শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই আট বছরের এক বালকের বেপরোয়া ও নৃশংস হামলায় গুরুতর জখম হল মাত্র ছ’বছর বয়সী এক শিশুকন্যা। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চণ্ডীগড়ের স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে একরত্তি মেয়েটি। শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিবরণ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বুধবার স্কুল চলাকালীন শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই ঘটে এই রোমহর্ষক কাণ্ড। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অভিভাবক মহল। ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ক্লাসরুমের ভেতরেই ছয় বছরের মেয়েটির চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে একের পর এক বেঞ্চ ও টেবিলের কোণায় আছাড় মারছে আট বছরের বালকটি। ব্যথায় ও ভয়ে শিশুটি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে সেখানেই থামেনি সে। তাকে নির্মমভাবে লাথি মারা হয়, মেঝেতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ইট জাতীয় ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হতে থাকে। ফুটেজে দেখা যায়, আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তে ভেসে যাচ্ছে শিশুটি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন।
অপরাধ দমন শাখার ডেপুটি কমিশনার অমরিন্দর সিং জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুটি ছয় বছরের এবং অভিযুক্ত নাবালকের বয়স আট বছর। এত অল্প বয়সে এমন চরম আক্রোশ ও হিংস্রতার কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নাবালকের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য তার বিশেষ মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী সাত থেকে বারো বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো অপ্রীতিকর বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে নির্দিষ্ট নিয়মে শারীরিক ও মানসিক মূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক। চিকিৎসকদের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এদিকে এই নারকীয় ঘটনায় স্কুলের ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। একটি সাধারণ শ্রেণিকক্ষের ভেতর দীর্ঘক্ষণ ধরে এমন নারকীয় অত্যাচার চলল কীভাবে, সেই সময় শিক্ষক-শিক্ষিকা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নজরদাররা কোথায় ছিলেন তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিভাবকরা। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে তদন্তের অংশ হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা।




