ওড়িশা, নিউজ ডেস্ক: জঙ্গলের পথে কয়েকটি ছোট্ট প্রাণীর চলাফেরা প্রথমে হয়তো চোখে পড়বে না। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে দৃশ্যটি সাধারণ নয়। মায়ের পিছু পিছু একের পর এক ছোট্ট পা এগিয়ে চলছে একই দিকে, আর সামনে রয়েছে তাঁদের পরিচিত আশ্রয়। ক্যামেরাতে ধরা পড়ে এই সুন্দর দৃশ্য। বন্যপ্রাণীদের সাধারণ জীবনের এই ছোট্ট মুহূর্তই এখন হয়ে উঠেছে সংরক্ষণকর্মীদের কাছে বড় আশার বার্তা।
উড়িষ্যার দেবরীগড় অভয়ারণ্যে দেখা মিলেছে ঢোলের নতুন প্রজন্মের। ভারতীয় বুনো কুকুর নামে পরিচিত এই বিরল বুনো ক্যানিড প্রজাতির কয়েকটি শাবক তাঁদের মায়ের সঙ্গে জঙ্গলের রাস্তা ধরে হাটতে দেখা গিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জন্ম নেওয়া এই শাবকদের সাম্প্রতিক দৃশ্যই নজর কেড়েছে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের। হিরাকুদ ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের তরফে এই দৃশ্যের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। বন দফতরের বক্তব্য এই দৃশ্য অভয়ারণ্যের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি আশাবাদী ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
দেখুন: https://x.com/HirakudDFO/status/2099517315633017199?s=20
কোনও বিরল বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে নতুন প্রজন্মের জন্ম এবং নিরাপদে বেড়ে ওঠা সেই এলাকার পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বন্যপ্রাণী বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, দেবরীগড়ের আবাসস্থল ঢোলদের প্রজনন, শাবকদের প্রতিপালন এবং তাঁদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। দুর্লভ এই বুনো ক্যানিড প্রজাতির জন্য আবাসস্থল কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা তারই প্রমাণ। ঢোল ভারতীয় উপমহাদেশ গুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বুনো ক্যানিডগুলির মধ্যে অন্যতম। তাঁদের টিকে থাকার জন্য নিরাপদ জঙ্গল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং বিচরণের উপযুক্ত পরিসর প্রয়োজন। ফলে, দেবরীগড় শাবকদের বেড়ে ওঠার ছবি বাস্তুতন্ত্রের ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। সেখানে অনেকে জানতে চেয়েছেন শাবকদের মোট সংখ্যা কত। তবে, বন দফতরের প্রকাশিত বার্তায় শাবকদের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে, সংখ্যার থেকেও এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের নিরাপদ উপস্থিতি। মায়ের পিছু পিছু ছোট্ট ছোট্ট পায়ে জঙ্গলের পথে চলা শাবকদের দৃশ্য শুধুমাত্র প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করেনি, বরং সংরক্ষণ প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক ছবিও সামনে এসেছে। উড়িষ্যার দেবরীগড় অভয়ারণ্যে ঢোলের এই নতুন প্রজন্ম আগামী দিনে কতটা সফল ভাবে বেড়ে উঠে, সে দিকেই নজর থাকবে। আপাতত তাঁদের স্বাভাবিক বিচরণ এবং নিরাপদে চলাফেরা বন দফতরের কাছে যথেষ্ট একটি আশাব্যঞ্জক লক্ষণ।