লন্ডন: দু’বছর আগের সেই ভিডিয়োটি আবার সামনে আসতেই আবেগে ভাসলেন ব্রিটিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর এমিলি জোন্স। অস্ত্রোপচারের ঠিক আগের রাত। ক্যামেরার সামনে বসে একের পর এক ভয়, উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার কথা বলছিলেন তিনি। আর আজ? সেই সময়ের এমিলি যেন অনেকটাই বদলে গিয়েছেন। প্রায় ৮০ কেজি ওজন কমিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর কাছে এই বদল শুধুই ওজন কমানোর গল্প নয়—এ এক গভীর মানসিক লড়াই থেকে বেরিয়ে আসার কাহিনি।
গ্যাস্ট্রিক বাইপাস অস্ত্রোপচারের আগের রাতে ভিডিয়োটি রেকর্ড করেছিলেন এমিলি। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, নানা বিষয়েই ভয় লাগছে তাঁর। কিন্তু সবচেয়ে বড় ভয় ছিল অন্য জায়গায়। কারণ, জীবনে প্রথম বার কোনও অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি, অথচ পাশে নেই তাঁর মা-বাবা।
কথা বলতে বলতেই গলা ধরে আসে এমিলির। শেষ পর্যন্ত ভিডিয়ো বন্ধ করে দিতে হয় তাঁকে। সেই সময়ের সেই ভয় পাওয়া মহিলার সঙ্গে আজকের এমিলির তফাতটাই নতুন করে ছুঁয়ে গিয়েছে নেটমাধ্যমকে।
এমিলির ওজন কমানোর গল্পের পিছনে রয়েছে গভীর ব্যক্তিগত শোকও। মাত্র ছ’সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর বাবা ও মায়ের মৃত্যু হয়। তার উপর মায়ের মস্তিষ্কে ধরা পড়েছিল মারণ টিউমার।
এই পরপর আঘাত তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দেয়। শোক, মানসিক চাপ এবং নিজের শরীর নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াই—সব মিলিয়ে একটা সময় বুঝতে পারেন, শুধু ওজন কমানো নয়, তাঁকে আসলে নিজের জীবনটাকেই নতুন করে গড়তে হবে।
গ্যাস্ট্রিক বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর প্রায় ৭৫ কেজি ওজন কমান এমিলি। এরপর লিপিডিমা-সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসার জন্য আরও একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। সব মিলিয়ে তাঁর শরীরের ওজনে প্রায় ৮০ কেজির পরিবর্তন এসেছে।
তবে নিজের এই যাত্রাকে শুধুমাত্র ‘ওজন কমানোর সাফল্য’ হিসেবে দেখতে নারাজ এমিলি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি কখনওই নিজের পুরনো শরীরকে ঘৃণা করা ছিল না। বরং নিজের প্রতি যত্ন, ভালবাসা এবং সুস্থ ভাবে বাঁচার ইচ্ছাই তাঁকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে গিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের পুরনো ভিডিয়োটি শেয়ার করে এমিলি লিখেছেন, কেউ যদি তাঁর গল্পকে শুধুই ওজন কমানোর গল্প হিসেবে দেখেন, তা হলে আসল কথাটিই বুঝতে পারবেন না।
তাঁর কথায়, শারীরিক পরিবর্তনের পিছনে অনেক সময় মনের ভিতরের লড়াইও কাজ করে। নিজের পুরনো ভিডিয়োর সেই ভীত, দিশাহীন মেয়েটিকে আজ যেন দূর থেকে দেখতে পান তিনি। তাই সেই ‘ভীত ছোট মেয়েটিকে’ যদি আজ সামনে পেতেন, তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলতেন—সব ঠিক হয়ে যাবে।
এমিলির গল্প তাই শুধু দাঁড়িপাল্লার কাঁটা নামার গল্প নয়। বরং শোক, ভয়, শরীর নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনকে নিজের মতো করে ফিরে পাওয়ার গল্প।