স্পোর্টস ডেস্ক: প্রস্তুত বিশ্ব দাবার সবথেকে বড় মঞ্চ। বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিডে দাবা অলিম্পিয়াড। তার আগে শুধুমাত্র লক্ষ্য আর প্রস্তুতিতে ডুবে থাকার কথা ছিল চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের। কিন্তু উজবেকিস্তানে পৌঁছতেই তৈরি হল অন্যরকম বিড়ম্বনা। সমরখন্দে পৌঁছনোর পর প্রায় ৫ ঘণ্টা কেটে গেলেও হোটেলে ঘর বরাদ্দ পেলেন না বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ, আর প্রজ্ঞানানন্দ-সহ ভারতীয় দলের সদস্যরা। বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও পরিস্থিতির কোনও স্পষ্ট সমাধান না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
ঘটনার কথা সামনে এনেছেন ভারতীয় দলের গ্র্যান্ডমাস্টার এবং নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন শ্রীনাথ নারায়ণন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমরখন্দ বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে গোটা দলকে। কিন্তু কোথায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে, কখন ঘর মিলবে— সেই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি তখনও। খেলোয়াড়রাই শুধু নন। দলের সাপোর্ট স্টাফদেরও একই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে এমন পরিস্থিতি যে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
এ বারের অলিম্পিয়াডে খেতাব রক্ষক হিসেবে নামছে ভারতীয় দল। ফলে গুকেশ, আর প্রজ্ঞানানন্দ-সহ দলের প্রত্যেকের ওপরই থাকছে বাড়তি প্রত্যাশা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশের পাশাপাশি ভারতের শক্তিশালী দাবা দলকে ঘিরে এ বারের প্রতিযোগিতাতেও পদকের প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাভাবিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। সেই জায়গায় সমরখন্দে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শ্রীনাথের পাশাপাশি ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বিদিত গুজরাটিও পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট, দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও তখনও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত দলের থাকার ব্যবস্থা কীভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষা ছিল। বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে ফিডে দাবা অলিম্পিয়াড। তার আগে এমন অপ্রত্যাশিত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ভারতীয় দল কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে, এখন সেটাই দেখার।