নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে ডানা বেধেছে একাধিক প্রশ্ন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এস আই আর এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে যে সমস্ত নাম বাদ গিয়েছে তাদের একটি বড় অংশ মুসলিম ভোটার। যদিও বাদ পড়া নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার জন্য সংশোধন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। কিন্তু তা চলছে লোকাল ট্রেনের চেয়েও ধীর গতিতে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মোট ২৭ লক্ষ ৫ হাজার ১৬২ জন ভোটারকে ‘নট এলিজিবল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮.৯৮ লক্ষ মুসলিম, যা বাদ পড়া ভোটারের প্রায় ৭০.২ শতাংশ। রাজ্যে মুসলিম ভোটারের অনুপাত যেখানে প্রায় ২৫ শতাংশ, সেখানে বাদ পড়া ভোটারের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ৩১.৮ শতাংশ মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর এই তিন জেলায় রয়েছে। তিন জেলার বাদ পড়া ভোটারদের প্রায় ৯৪.৪ শতাংশ মুসলিম। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নাম যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়েই বড় সংখ্যক ভোটার বাদ পড়েছেন।
রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নাম না মেলার হার এবং শেষ পর্যন্ত ভোটার বাদ পড়ার হারের মধ্যে সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে মিলিয়ে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৮৩। তাঁদের মধ্যে ৬ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৫৮ জন মুসলিম বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ এই দুই জেলায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ২,৮৩৩ জনকে ভোটার তালিকায় পুনর্বহাল করা হয়েছে। যেখানে রাজ্যজুড়ে গড় পুনর্বহালের হার ২৭.৭৭, সেখানে প্রতি হাজার বাদ পড়া ভোটারের হিসাবে পুনর্বহালের হার মুর্শিদাবাদে ৪.০৫ এবং মালদহে ৪.১৩। নতুন করে বিপুল সংখ্যক আপিল জমা পড়লেও নিষ্পত্তির হার রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী জেলা উত্তর দিনাজপুরে চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সেখানে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৬৯ জনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার প্রায় ৯০.৪ শতাংশ মুসলিম। তবে এখনও পর্যন্ত ১১,০৫৩ জনকে ভোটার তালিকায় পুনর্বহাল করা হয়েছে। প্রতি হাজার বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে ৬২.৫ জন ভোটার তালিকাভুক্ত এসেছেন।
প্রতিবেশী দুই জেলায় একই রকম পরিস্থিতি ও বিপুল পরিমাণ মামলা থাকা সত্ত্বেও দুই জেলার ফলাফলে পার্থক্য দেখা দিয়েছ। যদিও দুই জেলার এস আই আর এর জন্য নিযুক্ত আধিকারিকের সংখ্যা, তাদের কাজের পদ্ধতি এবং জেলাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণই আলাদা। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এখনো বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে ট্রাইবুনালের রায়ে রাজ্যজুড়ে এখনো পর্যন্ত যে মামলা গুলি নিষ্পত্তি হয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ নাম বাদ পড়া ভোটারকে ফের তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বহাল হওয়া ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয় আলাদাভাবে উল্লেখ করা নেই। ফলে ইতিমধ্যে নতুন তালিকাভুক্তদের মধ্যে কতজন মুসলিম সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।