কলকাতা, নিউজ ডেস্ক - মাত্র একদিন আগেই সবকিছু মুছে দেওয়া হয়েছিল। দেওয়াল ছিল ধবধবে সাদা। ধরে নেওয়া হয়েছিল এবার বোধহয় শান্তি ফিরবে। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার সঙ্গেই চমকে ওঠে সবাই। সাদা দেওয়াল আর সাদা দেওয়াল নেই, সেখানে তারবদলে রয়েছে কিছু ইঙ্গিত ও লেখা। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তৈরি হল ফের একপ্রকার চাপা উত্তেজনা।
দেওয়াল মুছে দেওয়ার এক রাতের মধ্যেই আবারও নতুন দেওয়াল লিখন হল যাদবপুর ক্যাম্পাসে। যা নিয়ে রীতিমতো সরগরম বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। তবে এবার লেখাটা একেবারেই আলাদা, টানা দেশবিরোধী পোস্টারের পর এবার নিশানায় মনীষীরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঋষি অরবিন্দ, প্রয়াত উপাচার্য গোপাল চন্দ্র সেন সহ ভারতীয় মনীষীদের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশে হিন্দু গণহত্যার বিচার চেয়ে পোস্টার এবং ভারতীয় সংবিধানে নন্দলাল বসুর আঁকা 'রাম ছবি' লাগানো হয়েছে এবিভিপির পক্ষ থেকে।
আর এর ফলেই কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়ে চলেছে। সূত্রে খবর, মাত্র একদিন আগেই পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে সাফ করা দেওয়াল রাতারাতি নতুন বিতর্কিত স্লোগানে ভরে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেয়ালে হিন্দিতে লেখা হয়েছে 'মুসোলিনি কো দে দিয়াআজাদি' ,'আরএসএস কো ভি দেঙ্গে আজাদি'। এবং 'যো হিটলারওয়ালি চাল চালেগা, ও হিটলারওয়ালি মউত মরেগা'। এইসব স্লোগান দ্বারা সরাসরি নিশানা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে এবং পাশাপাশি হিটলার ও মুসোলিনির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক বিতর্কে ছবি ও লেখা সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল পড়াশোনার পরিবেশ ফেরাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বুধবার সকালে দেখা যায় ফের দেওয়ালে তুলে ধরা হয়েছে একাধিক বার্তা।
অন্যদিকে, 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' বিতর্কের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অন্য একটি পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সেখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ১৯৭৭ সালে বিদেশমন্ত্রী থাকাকালীন প্যালেস্টাইন নিয়ে করা একটি বক্তব্যের উল্লেখ করা রয়েছে। এমনকি, পোস্টারে একটি QR কোড যোগ করে বলা হয়েছে এটি স্ক্যান করলে পুরো বক্তব্য শোনা যাবে। পাশাপাশি নিচে লেখা রয়েছে যাদবপুর রাষ্ট্রবাদী ছাত্রদের তরফে। এই পোস্টার ঘিরেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এনএসএফ নেতা সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, অতিবামরা ইচ্ছে করে তাঁদের নাম ব্যবহার করে অশান্তির সৃষ্টি করছে। আবার, এবিভিপির নেতা আদিত্য মন্ডল পাল্টা কটাক্ষ করে জানান, যাদবপুর কারও ব্যক্তিগত জায়গা নয়, এখানে লাল সন্ত্রাস বেশিদিন টিকবে না।
এদিকে, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও বেড়ে চলেছে। ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে 'হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি' জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের ডাক দেয়। এর আগে এবিভিপি 'বন্দেমাতরম' মিছিল করে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নন্দলাল বসুর ছবি আটকায়। পাশাপাশি এসএফআই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে মিছিল করে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে শান্তিরক্ষার আবেদন জানানো হলেও পরিস্থিতি যে ফের উত্তপ্ত, তা বলাই বাহুল্য। এবারে মনীষীরা তাই যাদবপুর নিয়ে ক্রমাগতই উত্তেজনার পারদ চড়ছে তুঙ্গে।