কলকাতা, নিউজ ডেস্ক - কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে স্থায়ী সমাধানের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, মাঠে নেমে পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী। টানা বর্ষণের সঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলের জেরে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে দুর্গাপুর, বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবার সকাল থেকেই অবশ্য ধাপে ধাপে জল ছাড়ার পরিমাণ কমাতে শুরু করেছে ডিভিসি।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬২৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে, যার মধ্যে মাইথন থেকে ৪৩ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়। তবে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত জল ছাড়ার মাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এই সার্বিক পরিস্থিতির উপর রাজ্য প্রশাসন কড়া নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার দুপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনও ড্যাম বা জলাধারের জল ধারণের নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে জল ছাড়তেই হয়, এটা বাস্তব। অতীতে এই ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলেও বা ‘ম্যান মেড’ বন্যার তত্ত্ব খাড়া করা হলেও, বর্তমান রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করে বাস্তব মেনে মোকাবিলার পথ বেছে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসির বর্তমান ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, সংস্থাটি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং বেঙ্গল ক্যাডারের আইএএস রাজেশ পান্ডে চেয়ারম্যান হওয়ার পর নজরদারিও যথাযথ রয়েছে।
অতিরিক্ত জলের চাপ সত্ত্বেও কোথাও কোনও বাঁধ ভাঙেনি। পাশাপাশি একাধিক জেলায় গঙ্গার ভাঙন সমস্যা নিয়ে বড়সড় আশার কথা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভাঙন রোধে স্থায়ী পথ খুঁজতে কানপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞ দল, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক এবং বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ এই তিন রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক করে একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। এই সংক্রান্ত কাজে এনডিএম এবং রাজ্য তহবিলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার আর্জি জানিয়েছে রাজ্য।
অন্যদিকে, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় প্রশাসনের তরফে সরাসরি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে বাঁকুড়া জেলার সোনামুখির উত্তর নিত্যানন্দপুর এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজে নৌকা চালিয়ে পৌঁছে যান বন, সমবায় ও পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। তিনি স্থানীয় দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন। বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে পূরণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।