নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক - যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলনকারী ছাত্রের বাবার ওপর হামলায় অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবিতে থানায় সিজেপি। নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী প্রতিবাদ চলাকালীন এক ছাত্রের পিতাকে মারধরের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরাসরি থানায় পৌঁছাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অভিযুক্তের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি চেয়ে শুক্রবার সকালে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস সহ অন্য প্রতিনিধিরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ জুলাই। যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলাকালীন নিশু নামের এক বিক্ষোভকারী ছাত্রের পিতা সঞ্জয়বাবুর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনিই ওই দিন সঞ্জয়বাবুর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। নিজেকে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করেনি।
এই স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সিজেপি নেতৃত্ব। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ভিডিওতে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরাসরি স্থানীয় ডিসিপি শচীন শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় পুলিশের চোখের সামনেই হামলাকারীরা ঘুরে বেড়ালেও ডিসিপি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করেন এবং উল্টে অভিযোগকারীদের হুমকি দেন। এমনকি আন্দোলনের আগে পাথরবোঝাই ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও ওই পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা ছিল বলে দীপকে অভিযোগ তোলেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্যতা এখনো যাচাই করা যায়নি।
উল্লেখ্য, নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে গত ২০ জুলাই দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল সিজেপি। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল দিকে দিকে। একেবারে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল দিল্লি। রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্ররা একত্রিত হয়েছিল এই আন্দোলনে।
তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের অন্যতম দাবি পূরণ হওয়ার পর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও সংগঠনের স্পষ্ট বার্তা, সঞ্জয়বাবুর উপর হামলার বিচার এবং বাকি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে তারা ফের দেশজুড়ে অহিংস আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে।