পুরী, নিউজ ডেস্ক: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কত মানুষজন এসেছেন, প্রার্থনা করেছেন এবং ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু মন্দিরের অন্দরে জমা হতে থাকা সম্পদের হিসেব স্পষ্ট ভাবে কখনও সামনে আসেনি। কোথাও জমেছে বিপুল অর্থ, আবার কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ জমি। আর সাথে এমন এক ভান্ডার রয়েছে, যার দরজার ওপারে কি সম্পদ রয়েছে, তা জানার আগ্রহ বহুদিনের। পুরীর মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা চমকে দেওয়ার মতোই। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ করেছে মন্দির প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মন্দিরের ফিক্সড ডিপজিটে জমা রয়েছে ১,৮১১.১০ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রায় ১,৩১১.১০ কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি খাতের ব্যাংকে রাখা হয়েছে। আরও ৫০০ কোটি টাকা রয়েছে ওড়িশা সরকারের দেওয়া কর্পাস ফান্ড হিসেবে। ফিক্সড ডিপোজিটের বাইরে মন্দিরে সেভিংস কারেন্ট ও ফ্লেক্সি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে আরও ১০০.৭১ কোটি টাকা। ফলে, মন্দিরের মোট ব্যাংক আমানতের অংক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৯১১.৮০ কোটি টাকা।
সূত্রে খবর, এই বিপুল অর্থের উৎস একাধিক। ভক্তদান, মন্দিরের মালিকাধীন খনি, পাথরখনি থেকে আয়, ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ, জমি সংক্রান্ত লেনদেন এবং সরকারি অনুদান বিভিন্ন উৎস থেকে মন্দিরের খাতে টাকা জমা হয়। দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ ফের ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিদিনের হুন্ডির টাকাও নিয়ম মেনে গণনা করা হয়। সেই অর্থ সংগ্রহের তথ্য বোর্ডে প্রকাশ করার পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও জানানো হয়। এমনকি, ভক্তদের অনলাইন দানের সুবিধার জন্য 'সমর্পণ' নামের একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে জমা পড়েছে ৫৬.৭১ লক্ষ টাকা।
তবে, মন্দিরের সম্পদের গল্প শুধুমাত্র ব্যাংকের হিসেবেই শেষ নয়। সারাদেশের মধ্যে মন্দিরের রয়েছে ৬০,৮২১ একর জমি। এর মধ্যে ৬০,৪২৬ একর ওড়িশার ২৪ টি জেলায় এবং বাকি ৩৯৫ একর পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও ছয়টি রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর রয়েছে বহু আলোচিত রত্ন ভান্ডার। সোনা, হীরা এবং বিভিন্ন মূল্যবান অলংকার সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে বর্তমানে সেই সম্পদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে এবং প্রায় ৮৪ বছর পর এই প্রক্রিয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দ্বাদশ শতাব্দীর এই ঐতিহাসিক মন্দির ১৯৫৫ সালের শ্রী জগন্নাথ মন্দির আইন অনুযায়ী ওড়িশা সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি পুরীর জগন্নাথ মন্দির যে বিপুল সম্পদের অধিকারী, সাম্প্রতিক তথ্য সামনে আসার পর সেই ছবিটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে, রত্নভান্ডারের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে এলে মন্দিরের ঐশ্বর্যের ছবিতে আর কি কি যোগ হবে, এখন সেদিকেই নজর।