বারুইপুর, নিউজ ডেস্ক: ক্ষোভ আর উত্তেজনার আবহে বারুইপুরের সূর্যপুরের নাবালিকা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল বিশেষ তদন্তকারী দল । ঘটনার ঠিক ষাট দিনের মাথায় এবং অভিযোগ দায়েরের মাত্র আট সপ্তাহের ব্যবধানে বারুইপুরের বিশেষ পকসো আদালতে পেশ করা হল ৭০২ পাতার বিশদ চার্জশিট।
আদালত সূত্রে খবর, জমা পড়া এই চার্জশিট নম্বর ১৪০৮/২০২৬। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারা এবং পকসো আইনের কড়া ৬ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৪ জুলাই রাতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই নাবালিকা। পরদিন বিকেলে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দি নিথর দেহ উদ্ধার হতেই প্রতিবাদের আগুনে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। নৃশংস এই অপরাধের কিনারা করতে রাজ্য সরকার তৎপরতার সঙ্গে ‘সিট’ গঠন করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত চার জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তদন্তের মাঝেই ৮ জুলাই রাতে ঘটে যায় নাটকীয় ঘটনা। ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের পাল্টা গুলিতে এনকাউন্টারে খতম হয় সে। ফলে বর্তমানে জীবিত তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই মামলা এগোচ্ছে।
চার্জশিটে চিকিৎসকদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বস্তায় পুরে পুকুরের জলে ফেলার মুহূর্তেও মেয়েটির দেহে প্রাণ অবশিষ্ট ছিল। তার আগে তার উপর চালানো হয় চরম পাশবিক নির্যাতন। নাবালিকার মাথায় ভারী আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং যৌনাঙ্গে ছিল গভীর ক্ষত।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবে দমবন্ধ হওয়াই ছিল তার মৃত্যুর কারণ। আইন মেনেই নির্যাতিতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে।