কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: শহরের ছবিটা যেন একসঙ্গে দুটি গল্প বলছে। একদিকে উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে শহরের রাস্তায় জমে থাকা একের পর এক প্রশ্ন। কোথাও পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ কোথাও যানজটে নাকাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। সাংবাদিকদের সামনে আসতে উঠে এলো এমন কিছু প্রসঙ্গ, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তারই মাঝে উঠে এল একটি বিশেষ দিনের প্রসঙ্গ। সব মিলিয়ে সাংবাদিক বৈঠকেই যেন একাধিক ইস্যুর দরজা খুলে গেল।
আগামী ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। সেই উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও 'সেবা সপ্তাহ' পালন করবে দল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানান এক বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, শুধু জন্মদিন উদযাপন নয়; এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছনো।
রোগীদের সেবাশশ্রূষা, রক্তদান শিবির, দুস্থদের সহায়তা সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শ, নেতৃত্ব এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারন মানুষের কাছে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।
কিন্তু কথার মধ্যেই সামনে আসে অন্য ছবি। এরপরই রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এরপরই উঠে আসে নিউটাউনের রাস্তাঘাটের প্রসঙ্গ।
তাঁর অভিযোগ, নিউটাউন থেকে বেরোলেই চিংড়িঘাটা ও চিনার পার্কের দিকে যানজটে আটকে পড়তে হয় মানুষকে। ব্যস্ত সময়ে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তিনি জানান, নিউটাউনের পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে যানজট গোটা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য অতীতে HIDCO ও NKDA এর সঙ্গে ফ্লাইওভার এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তবে, শুধু যানজট নয় নিউ টাউনের দ্রুত বেড়ে চলা জনসংখ্যার সঙ্গে নাগরিক পরিষেবার সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, নিউটাউনকে আদর্শ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আইনশৃঙ্খলা যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোর সামগ্রিক পুনর্বিন্যাস জরুরি। অর্থাৎ মোদীর জন্মদিনের সেবাসপ্তাহ থেকে ডেঙ্গু এবং নিউ টাউনের যানজট, এক বৈঠকেই উঠে আছে তিন ভিন্ন ছবি। এখন এইগুলি দাবি ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে কি প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই নজর।