নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারত সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মস্কো ও কিয়েভ, দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে নয়াদিল্লি। এমন সময়েই ইউক্রেন ও পোল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর।
৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সফরে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এবং পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী রাদোস্লাও সিকোরস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন জয়শঙ্কর। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে।
জয়শঙ্করের ইউক্রেন সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর কিছুদিন আগেই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে মোদি যুদ্ধকে ‘অনন্ত যুদ্ধ’-এর পথে না নিয়ে গিয়ে সংঘাতের অবসানের দিকে এগোনোর বার্তা দেন।
বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রিও জানিয়েছিলেন, মোদি পুতিনকে স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যা কিছু সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়, ভারত তা করতে প্রস্তুত। শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
ইউক্রেনও শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দফতরের প্রথম ডেপুটি হেড সের্গি কিসলিৎসা কিয়েভে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অঞ্জনি কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যুদ্ধের অবসানে ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করে ইউক্রেন।
এটি ইউক্রেনে জয়শঙ্করের প্রথম একক সরকারি সফর। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ইউক্রেন সফরে গিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে রুশ বিমান হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও এই সফরের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ওই নাগরিকের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস পরিবারকে সহায়তা করছে।
একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে বাড়তে থাকা যোগাযোগ, দুই দিকই বজায় রেখে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি। আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী না হলেও, দুই পক্ষের সঙ্গে ভারতের নিয়মিত যোগাযোগ ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।