নিউজ ডেস্ক:২০১৯ সালের সেই আকাশযুদ্ধের কথা এখনও দেশবাসীর স্মৃতিতে টাটকা। পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে আকাশে গুলি করে নামানোর পর নিজেও পাক সেনার হাতে বন্দি হয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার তৎকালীন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সেই সাহসী সেনা-অফিসারই এ বার পাড়ি দিলেন একেবারে এক অন্য জগতে। ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে আগাম অবসর নিয়ে বেসরকারি বিমান সংস্থায় বাণিজ্যিক পাইলট হিসাবে নতুন কেরিয়ার শুরু করেছেন তিনি। একটি নামী সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, গোয়ার আঞ্চলিক বিমান সংস্থা FLY91-এ যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন। সূত্রের দাবি, অগাস্টেই নতুন সংস্থায় যোগ দিয়েছেন তিনি।
প্রায় ২২ বছর ভারতীয় বায়ুসেনায় কাজ করেছেন অভিনন্দন। তবে এ বার সামরিক পোশাক খুলে বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটে বসার সিদ্ধান্ত। অভিনন্দনের নতুন কর্মজীবন নিয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিমান সংস্থাটির মুখপাত্রও কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের মার্চে পরিষেবা শুরু করা এই বিমান সংস্থার বর্তমানে ৬টি ATR 72-600 বিমান রয়েছে। গোয়া ও হায়াদ্রাবাদ, এই দুই শহরকে ঘাঁটি করে পরিষেবা চালায় সংস্থাটি।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা চালায় ভারত। তার পরের দিন পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই সংঘাতের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন অভিনন্দন। ২৭ ফেব্রুয়ারি আকাশযুদ্ধে তাঁর মিগ-২১ বাইসন বিমানটি ভেঙে পড়ার আগে তিনি পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছিলেন বলে ভারতীয় সূত্রে দাবি করা হয়। পরে বিমান থেকে বেরিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে পড়েন তিনি এবং পাক সেনার হাতে বন্দি হন।
প্রায় ৩ দিন পাকিস্তানের হেফাজতে থাকার পর ২০১৯ সালের ১ মার্চ রাতে দেশে ফেরেন অভিনন্দন। বিমান থেকে বেরোনোর সময় তিনি আহতও হয়েছিলেন। তাঁর সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং অসাধারণ বীরত্বের স্বীকৃতি হিসাবে সেই বছরই তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্ব পদক ‘বীর চক্র’ দেওয়া হয়। এ বার সেই যুদ্ধবিমান-চালকই সামরিক জীবনের ইতি টেনে যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট হিসাবে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। আকাশের যুদ্ধ থেকে বাণিজ্যিক উড়ান। অভিনন্দনের কেরিয়ারে বদল এলেও ককপিটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে অটুট থাকছে, তা বলাই যায়।