নিউজ ডেস্ক: সবকিছু চলছিল স্বাভাবিক ছন্দেই। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে নদীর উপর তৈরি সেতুটিই ছিল বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। হঠাৎ সেই পথেই দেখা গেল বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পরিস্থিতি। একের পর এক গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে তৈরি হল উদ্বেগ। কোথাও আবার জরুরী পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।
অরুণাচল প্রদেশের আঞ্জাও জেলার লোহিত নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারত-চীন সীমান্তের কাছে বেশ কয়েকটি প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাহো, মুসাই এবং ডং গ্রাম।
সূত্র: https://x.com/sompura_preeti/status/2095095224225894656
কিবিথু সার্কেলের ক্রৌতি এলাকায় অবস্থিত কেকেজি-বিএসবি সেতুটি ওই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামগুলির যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সেতুটি মূলত একটি 'জীবন রেখা' হিসেবে কাজ করে। ফলে, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।
ভারত চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত কাহো, দেশের অন্যতম পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত গ্রাম। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এমনিতেই এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তারওপর গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি সমাজমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রাক বা ভারী যান চলাচল নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন সেতুটির বহন ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ভারী যানচলাচল হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে, সেতুটি ঠিক কি কারনে এবং কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
এই অবস্থায় দ্রুত সেতুটির পরিস্থিতি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পথ বা পরিবহনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ সীমান্তবর্তী এই দুর্গম এলাকাগুলিতে একটি সেতু শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয়। খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনী সামগ্রী পৌঁছনো থেকে শুরু করে জরুরী পরিষেবা সবকিছুর সঙ্গেই এই যোগাযোগ ব্যবস্থা জড়িয়ে আছে। ফলে, দ্রুত সেতুটি মেরামত না করা হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে।