নিউজ ডেস্ক: ক্যাফে সংস্কৃতি থেকে গ্রামীণ অর্থনীতি,ভারতে অ্যাভোকাডো বিপ্লবের নেপথ্যে আধুনিক রেস্তোরাঁ ও শহুরে ক্যাফেগুলোর হাত ধরে দেশে যে নতুন খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠছে, তা এখন আর কেবল ভোজনরসিকদের প্লেটেই সীমাবদ্ধ নেই, সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভারতীয় কৃষিতে। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে পরিচিতি পাওয়া ‘অ্যাভোকাডো টোস্ট’ কীভাবে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির পটভূমি বদলে দিচ্ছে, তা সম্প্রতি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ভিডিওটিতে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর ও অপরিচিত একটি ফল এখন দেশীয় বাজারের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং নজরকাড়া পরিবেশনার কারণে বিশেষ করে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের মধ্যে এই ফলের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া।
সূত্র: https://www.instagram.com/reel/DcxoMAFz2J6/?utm_source=ig_web_copy_link&igsi=MzRlODBiNWFlZA==
উচ্চ ফাইবার, উপকারি ফ্যাট এবং নানা খনিজের উপস্থিতির জন্য স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ডায়েটে অ্যাভোকাডো আজ অপরিহার্য। শহুরে এই জীবনধারার পরিবর্তনের কথা আগেই রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সম্প্রতি প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় তিনি দেখিয়েছেন, শহরের এই পরিবর্তিত চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে প্রান্তিক চাষিরা নিজেদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে নিচ্ছেন।
দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের দৃষ্টান্ত এখন কৃষিমহলে সাড়া ফেলেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষক করপা বরদরাজ বন্ধুর খামার ও ইউটিউবের সাহায্য নিয়ে এই ফলের চাষ শুরু করে আজ বছরে প্রায় চার টন অ্যাভোকাডো উৎপাদন করছেন, যা সরাসরি সরবরাহ হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। অন্যদিকে কর্ণাটকের চিকমাগালুরুতে কফি চাষিরা তাঁদের বাগানে কফির পাশাপাশি বিকল্প সাথী ফসল হিসেবে অ্যাভোকাডো গাছ লাগিয়ে বাড়তি মুনাফার মুখ দেখছেন।
শহরের খাদ্যরুচি ও গ্রামীণ কৃষিক্ষেত্রের এই সংযোগ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। একদিকে ক্রেতারা যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে দেশীয় তাজা ফল পাচ্ছেন, অন্যদিকে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকদের ঘরে আসছে নিশ্চিত আয়ের সুযোগ। একটি সাধারণ ফলের বাণিজ্যিক বিস্তার কীভাবে দেশীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, অ্যাভোকাডো এখন তারই প্রতীক।