উত্তর প্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: স্বপ্নের পথ চলার জন্য সব সময় প্রয়োজন হয়না দুটি পায়ের, প্রয়োজন হয় অদম্য ইচ্ছা শক্তির ও হার না মানা মানসিকতার - উত্তরপ্রদেশের ছোট্ট মেয়ে রাগিনী তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।
বাড়ি থেকে স্কুলে দূরত্ব মাত্র ৪০০ মিটার। যে পথ পেরোনো অন্য শিশুদের কাছে খুবই সহজ, সেই পথ পেরোনোই নিত্যদিনের কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায় রাগিনির কাছে। উত্তর প্রদেশের বালিয়া জেলার মনিয়ার ব্লকের দীঘেদা গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী রাগিনী। ছোটবেলাতেই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সে হারিয়েছে তার একটি পা।
প্রতিদিন এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুল যায় আসে সে। শারীরিক কষ্ট ছিল ঠিকই, কিন্তু তার কাছে এর থেকেও বড় ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। বাবা পেশায় দিনমজুর। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কৃত্রিম পা, ক্রাচ কিংবা চলাফেরার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও সরঞ্জাম কেনা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি সে। থামেনি তার স্বপ্নের পথচলা।
সম্প্রতি সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় চর্চা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, শিশুটি এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলের পথে এগিয়ে চলেছে। ভিডিওতে নিজের জন্য একটি ট্রাইসাইকেলের আবেদনও জানায় সে। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য নজর কাড়ে বহু মানুষের।
বিষয়টি জেলা প্রশাসনেরও নজর এড়ায়নি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মঙ্গলা প্রসাদ সিং রাগিনীর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আধিকারিক ও চিকিৎসকদের একটি দল পাঠান। পরে তিনি নিজেই গ্রামে গিয়ে রাগিনীর সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে ছোট্ট রাগিনির পাশে দাঁড়ায় আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংহ। সাংসদ ভিডিও কলের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ট্রাইসাইকেল। পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য ২৬,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তাও করা হয় রাগিনীকে।
বর্তমানে এই ট্রাই সাইকেলটি শুধুমাত্র রাগিনির যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং তার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক নতুন সংযোজন।