অন্ধ্রপ্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতে ভারত স্বাধীন হয়েছিল। আর সেই মধ্যরাতেই আবার ভারত রাখতে চলেছে নতুন পদক্ষেপ। আর, এবারকার বিষয় হলো মহাকাশ বিজ্ঞান। ৪ঠা সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৫৫, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা। উৎক্ষেপণ করা হবে জিএসএলভি-এফ১৭। এর মাধ্যমেই মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করবে উপগ্রহ EOS-05। প্রায় ৩৬০০০(ছত্রিশ হাজার) কিলোমিটার উচ্চতার ভূস্থির
কক্ষপথে থাকবে এই উপগ্রহ।
EOS-05-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখতে সক্ষম। সাধারণ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এক জায়গার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ছবি তোলে। এরপর ওই উপগ্রহ
আবার অনেকক্ষণ পর সেই এলাকাতেই ফেরে। অন্যদিকে, EOS-05 একই বিস্তীর্ণ এলাকার উপর প্রায় নিয়মিত নজর রাখবে। এই উপগ্রহের সাহায্যে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর নজর রাখা সহজ হবে।বিশেষ করে কোনও এলাকায় হঠাৎ কোনও ঘটনা ঘটে, তা দ্রুত নজরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে সরাসরি ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ এটি নয়। এই উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের উপগ্রহ। যার প্রয়োগ বেসামরিক এবং কৌশলগত দুভাবেই করা যাবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগেের খবর জানতেও এই উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে। ঝড়, বজ্রপাত, আগুন, বন্যা বা পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তন ঘটলে, সেই ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করবে। একারনে কোনো ঘটনা কীভাবে শুরু হচ্ছে ,এবং কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে তার সূক্ষ্মতম বিবরণ পাওয়া যাবে। ভারতের বেশিরভাগ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ পৃথিবীর কাছাকাছি ঘোরে। কার্টোস্যাট এবং রিস্যাট সিরিজের মতো উপগ্রহও নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও কোনও এলাকার ছবি তুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেখতে গেলে এই উপগ্রহটি অন্যান্য উপগ্রহর থেকে অনেক বেশি অ্যাডভান্স। এবং শুধু তাই নয়,এই উপগ্রহ ভারতের অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
কোনও একটি জায়গার পরিবর্তনের সময় ঘটা সমস্যা EOS-05-এর কমিয়ে দেবে। কারণ এই উপগ্রহে রয়েছে দুটি মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরা। অর্থাৎ, বিভিন্ন ধরনের আলোর তরঙ্গ ব্যবহার করে পৃথিবীর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে ক্যামেরাগুলি। এর এক একটি ক্যামেরার রেজোলিউশন ৪২ মিটার প্রতি পিক্সেল। এই ক্যামেরার সাহায্যে জমি,জল,কৃষি এবং পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কেও জানা যাবে। আসলে এই মিশনের সঙ্গে ইসরোর একটি পুরনো ব্যর্থতার স্মৃতিও আছে। ২০২১ সালের ১২ই আগস্ট GSLV-F10 রকেটের মাধ্যমে GISAT-1 উৎক্ষেপণের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে সেই মিশন সফল হয়নি। সফল হলে সেটিই ভারতের প্রথম ভূস্থির কক্ষপথভিত্তিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ হতে পারত।
তবে ব্যর্থতা কাটিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে ভারত। আর তাই,EOS-05-এর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণের পথে ইসরো। একই সাথে, আট মাসের বিরতি কাটিয়ে ফের উৎক্ষেপণ করতে চলেছে এই মহাকাশ গবেষণা ভিত্তিক সংস্থা। এই প্রকল্প সফল হলে, ভারতের মহাকাশভিত্তিক নজরদারি ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় আসবে নতুন সাফল্যের পালক।