কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মুখে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনে গভীর সঙ্কটের মেঘ ঘনিয়ে আসছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ এবং নতুন ইনসেনটিভ নীতির বিরোধিতায় একযোগে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মী ও আধিকারিকদের যৌথ সংগঠন ‘ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস’।
দাবিদাওয়া দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে সেপ্টেম্বর মাসেই দফায় দফায় কর্মবিরতি এবং আগামী অক্টোবর থেকে লাগাতার অচলাবস্থার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এই আন্দোলনের প্রভাব শাখা স্তরের পাশাপাশি এটিএম পরিষেবাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মী সংগঠনগুলির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী একদিনের পূর্ণ ধর্মঘট পালিত হবে। এরপর মাসের শেষ পর্বে, অর্থাৎ ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন কাজ বন্ধ রাখার ডাক দেওয়া হয়েছে। মাসের চতুর্থ শনিবার ও রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটির ঠিক পরেই এই ধর্মঘট পড়ায় কার্যত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা স্তব্ধ থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এতেও সরকার বা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক পদক্ষেপ না করলে, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিয়নগুলি। মূলত দুটি প্রধান ক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ তীব্র রূপ ধারণ করেছে।
প্রথমত, প্রতিটি শনিবার ও রবিবার পূর্ণ ছুটির নিয়ম কার্যকর করা। কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য, প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবারের ছুটির পাশাপাশি বাকি শনিবারগুলিও বন্ধ রাখার বিষয়ে এর আগে সহমত তৈরি হয়েছিল। এর বিনিময়ে সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দৈনিক ৪০ মিনিট অতিরিক্ত কাজ করতেও রাজি রয়েছেন কর্মীরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও অর্থ মন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি।
দ্বিতীয় বিতর্কটি তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ‘পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ বা পিএলআই নীতি ঘিরে। ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, ২০২০ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লাভের ওপর নির্ভর করে সব স্তরের কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেতন উৎসাহ ভাতা হিসেবে দেওয়ার নিয়ম ছিল। অথচ সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় কেবল উচ্চপদস্থ কিছু আধিকারিকদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এক বছরের বেতন পর্যন্ত ইনসেনটিভ দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৯৫ শতাংশকে বঞ্চিত রেখে মাত্র পাঁচ শতাংশ উচ্চপদস্থ অফিসারের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা কর্মীদের মধ্যে বড়সড় বৈষম্য ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। পূর্বের চুক্তিভঙ্গ ও বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিবাদেই এবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা স্তব্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি।