কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: সারাদিন মোবাইল, কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। এর ফলে চোখ নিয়ে আপনার মনে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। তবে, এমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, যা থেকে জানবেন স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে! অথবা ম্যাকুলার ডিজেনারেশন'র মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায় কিনা!
আপনি অনেকক্ষণ স্ক্রিনে কাজ করছেন।চোখ শুকনো, ঝাপসা দেখা, জ্বালা এবং ক্লান্তি লাগতে পারে। কিন্তু জানবেন, নীল আলো নয়, স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার অভ্যাসই এর জন্য দায়ী। স্ক্রিনে কাজের আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পলক ফেলি। এর ফলে চোখের ফোকাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশিগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এছাড়াও ঘুমের তারতম্যে চোখে প্রভাব পড়ে।
শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয় ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।তাতে দেখা যায় ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা চোখের ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় না, আবার চোখকে বিশেষ কোনও সুরক্ষাও দেয় না। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অপথ্যালমোলজি-ও বলছে, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় হিসাবে ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমার খুব একটা কার্যকর ভূমিকা নেই। তবে কেউ যদি মনে করেন, রাতে এটি ব্যবহার করলে মানসিকভাবে আরাম পান বা ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়, তাতে আপত্তির কিছু নেই। শুধু চিকিৎসাগত উপকারের প্রত্যাশা করা উচিত নয়।
সারাদিন কাজের শেষে চোখে অস্বস্তির সমস্যার নাম ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে কাজ করলে কম পলক ফেলা, চোখের পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার, স্ক্রিনের ঝলকানি, অনুপযুক্ত আলো, ভুল উচ্চতায় মনিটর রাখা বা পুরনো পাওয়ারের চশমা; এসব মিলিয়েই চোখে ক্লান্তি, শুষ্কভাব, মাথাব্যথা বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এই অস্বস্তি সহজ কিছু অভ্যাসে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এক্ষেত্রে '২০-২০-২০ নিয়ম' ব্যবস্থাটি উপকারী।১) প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকান। ২)কাজের ফাঁকে সচেতনভাবে বেশি পলক ফেলুন, স্ক্রিন চোখের সমতলের সামান্য নিচে রাখুন। ৩)পর্যাপ্ত আলোয় কাজ করুন এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করিয়ে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করুন। ৪)ঘুমের আগে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেওয়া বা কিছু সময়ের জন্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকাও ভালো অভ্যাস। ৫) সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ রক্ষায় ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখে যে অস্বস্তি হয়, অনেকেই তার জন্য নীল আলোকে দায়ী করেন- বিভিন্ন পণ্যের মার্কেটিং সেই ধারণাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। একারনেই নীল আলো নিয়ে ভ্রান্ত ধারণাই বেশি ছড়িয়ে পড়েছে! তবে সমস্যাটি স্ক্রিনের আলোর নয়। আমরা কীভাবে কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করছি- সেটাই তাৎপর্যপূর্ণ।