নিউজ ডেস্ক: অফিসে বসে কাজ করার সময় কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, অনেকেই তা খেয়াল করেন না। কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, বারবার ঝুঁকে কাজ করা কিংবা চেয়ার থেকে না ওঠার অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোমর, ঘাড়, কাঁধ এবং মেরুদণ্ডে তৈরি হতে পারে ব্যথা ও অস্বস্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার পিছনে শুধু দীর্ঘ সময় বসে থাকাই দায়ী নয়। কীভাবে বসে কাজ করছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ভঙ্গিতে বসলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থানে চাপ পড়তে পারে। তাই কর্মক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। চেয়ারে বসার সময় শরীরকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পিঠের পর্যাপ্ত সাপোর্ট থাকে। কোমরের নিচের অংশে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট থাকলে বসার সময় চাপ কিছুটা কমে। পা মাটিতে রাখার চেষ্টা করা উচিত এবং দীর্ঘক্ষণ পা ঝুলিয়ে বা অস্বাভাবিক অবস্থায় বসে থাকা এড়ানো দরকার।
কম্পিউটারে স্ক্রিনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রিন খুব নিচে থাকলে কাজ করার সময় স্বাভাবিকভাবেই মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। দীর্ঘ সময় এই অবস্থায় থাকলে ঘাড় ও কাঁধে টান তৈরি হতে পারে। তাই মনিটর এমন জায়গায় রাখা ভালো, যাতে চোখের সমতলের কাছাকাছি থেকে কাজ করা যায়।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একটানা বসে না থাকা। কাজের চাপ থাকলেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো উচিত। কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা বা শরীর সামান্য স্ট্রেচ করা যেতে পারে। এতে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকার কারণে তৈরি হওয়া পেশির শক্তভাব কমাতে সাহায্য করে। শুধু অফিসে নয়, বাড়ি থেকে কাজ করার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। বিছানা বা সোফায় দীর্ঘক্ষণ বসে ল্যাপটপ ব্যবহার করার অভ্যাসও এড়ানো দরকার।
অর্থাৎ, মেরুদণ্ডের সুস্থতার জন্য বড় কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। সঠিক চেয়ার, ঠিক উচ্চতায় স্ক্রিন, শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গি এবং কাজের মাঝে ছোট বিরতি, এই কয়েকটি অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে পিঠ ও মেরুদণ্ডকে ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।