রসমালাই: মিষ্টি খেতে ভালবাসেন, অথচ ক্যালোরি বেড়ে যাওয়ার চিন্তায় অনেক সময় নিজেকে সামলে নিতে হয়? বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে রসমালাইয়ের মতো সুস্বাদু মিষ্টি এড়িয়ে চলা বেশ কঠিন। তবে স্বাদের সঙ্গে আপস না করেও তৈরি করা যেতে পারে কম ক্যালোরির রসমালাই। আর এই রেসিপির অন্যতম প্রধান উপকরণ হল মাখানা। সাধারণ রসমালাইয়ের বদলে মাখানা দিয়ে তৈরি এই বিশেষ পদটি যেমন সহজে বাড়িতে বানানো সম্ভব, তেমনই এতে ব্যবহার করা হয়েছে টোনড মিল্ক, বাদাম এবং ক্যালোরিবিহীন মিষ্টির বিকল্প।
কী কী উপকরণ লাগবে?
এই রসমালাই তৈরি করতে প্রয়োজন এক লিটার টোনড দুধ, কয়েকটি জাফরানের দানা, দুই টেবিল চামচ স্কিমড মিল্ক পাউডার, এক চতুর্থাংশ কাপ গুঁড়ো করা ভাজা মাখানা এবং ৭০ গ্রাম গোটা ভাজা মাখানা। পাশাপাশি লাগবে চার-পাঁচটি করে কুচনো আমন্ড, কাজু ও পেস্তা। স্বাদ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে ক্যালোরিবিহীন সুইটনার। সাজানোর জন্য গোলাপের পাপড়ি এবং পরিবেশনের সময় আম বা সীতাফলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে একটি ভারী পাত্রে টোনড দুধ নিয়ে কম আঁচে গরম করতে হবে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে নাড়তে নাড়তে দুধ কিছুটা ঘন করে নিতে হবে। অন্যদিকে, স্কিমড মিল্ক পাউডার সামান্য জলের সঙ্গে মিশিয়ে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করে তা ধীরে ধীরে গরম দুধে মেশাতে হবে। এরপর জাফরান ভেজানো জল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করতে হবে।
এবার ভাজা মাখানার এক চতুর্থাংশ গুঁড়ো করে দুধের মধ্যে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে দুধের মিশ্রণ ঘন ও ক্রিমের মতো হবে। এরপর বাকি গোটা মাখানা, কুচনো আমন্ড, কাজু ও পেস্তা দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। স্বাদ অনুযায়ী ক্যালোরিবিহীন সুইটনার দিয়ে আরও দুই-তিন মিনিট রান্না করলেই তৈরি রসমালাইয়ের মিশ্রণ।
গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠান্ডা করে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা যায়। চাইলে উপরে সামান্য আম বা সীতাফলের পাল্পও দেওয়া যেতে পারে। উৎসবের মরশুমে বাড়িতে নতুন ধরনের মিষ্টি তৈরির জন্য এই রেসিপি একটি বিকল্প হতে পারে। ছোটো থেকে সকলেই বেশ জমিয়ে খেতে পারবে। এতে কোনো ক্যালোরিও নেই, তাই এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। মিষ্টির দোকানের মতো রসমালাই এবার আপনি নিজেই খুব সহজে বানিয়ে নিতে পারেন।
