মুর্শিদাবাদ, নিউজ ডেস্ক : সকাল থেকেই চলছিল উপ নির্বাচনের কাজ। কিন্তু বেলা যতো গড়াতে থাকল ততই যেন পরিস্থিতির বদল ঘটতে দেখা গেলো। বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় চারিদিকে। ভোট দিতে যাওয়ার পর দলীয় কার্যালয় পুলিশের সঙ্গে বসসায় জড়িয়ে পড়েন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁকে প্রথমে আটক এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এরপরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে নিজের গ্রামের শক্তিপুরের বুথে ভোট দেন হুমায়ুন কবীর। ভোট দেওয়ার পরই রেজিনগরের বিভিন্ন বুথে পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং তাঁর দলের কর্মী ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর তিনি রেজিনগরে AJUP-এর দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন। সেখানে থাকা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে শুরু হয় তাঁর বচসা। পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হতে শুরু করে। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তোলেন কবীর। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। এরপরেই পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশের দাবি, হুমায়ুন কবীর ওই সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন এবং উত্তেজনা ছড়ানোর মতো বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি এই উপনির্বাচনের প্রার্থী বা অনুমোদিত নির্বাচনী এজেন্ট নন বলেও জানায় পুলিশ। তাই ভোটকেন্দ্রগুলির আশপাশে তাঁর গতিবিধি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে দলীয় কার্যালয় থেকে সরে গিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন হুমায়ুন। তারপরেই তাকে আটক করা হয় ও পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদ পুলিশ সুপার সচিন মক্কার জানান, সুষ্ঠুভাবে উপনির্বাচন চলছিল। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন হুমায়ুন কবীর।এই উপনির্বাচনের প্রার্থী বা অনুমোদিত এজেন্ট নন।ভোটকেন্দ্রগুলির আশপাশে তাঁর ঘোরাফেরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত হুমায়ুনকে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন , দলের কর্মী, এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং একাধিক বুথে AJUP-এর এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ‘ভোট লুট’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। হুমায়ুন কবীরকে সামনে রেখে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে ভোটের সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা চলছে। হুমায়ুনকে বিজেপির ‘অতিথি শিল্পী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
উপনির্বচনে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। এই কেন্দ্রে হুমায়ুন কবিরের ভূমিকাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর এবং নওদা দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করায় এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। এবার রেজিনগরে AJUP-এর হয়ে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ। ফলে বাবার গ্রেফতারের ঘটনা ভোটের ময়দানে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।
ভোটের দিন হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারিকে ঘিরে চঞ্চল্য ছড়িয়েছে সর্বত্র। একাধারে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতীত্বের অভিযোগ। অপরদিকে ভোটে অসহযোগিতার অভিযোগ পুলিশের। তার মাঝে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কটাক্ষ। সব মিলিয়ে রেজিনগরের উপনির্বাচনের উত্তাপ বেড়েই চলেছে ক্রমশ।
