পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সকাল। ব্যস্ত সময়ে গন্তব্যের দিকে ছুটছিল একের পর এক গাড়ি। আচমকাই সেই ছন্দে এল ছেদ। কাঁসাই নদীর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে পরল গাড়ির সারি। ধীরে, ধীরে সেই সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে লাগলো। বাসের ভিতর অপেক্ষারত যাত্রী, পণ্য নিয়ে বেরোনো লরি কিংবা ছোট গাড়ি, সকলকেই থমকে থাকতে হল একটি জায়গায়। অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু যাত্রী গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। কি কারনে এই অবস্থা, তা নিয়ে শুরু হল কৌতুহল। কিছুক্ষণ পরেই স্পষ্ট হয়, দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন একদল পড়ুয়া।
সূত্রের খবর, বকেয়া ওয়েসিস স্কলারশিপের টাকার দাবিতে এবার পুরুলিয়ায় রাস্তায় নেমে অনির্দিষ্টকালের পথ অবরোধ শুরু করলেন আদিবাসী (ST) ছাত্র-ছাত্রীরা। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতির জেলা যুব শাখার ব্যানারে মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই প্রতিবাদ শুরু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম যানজট ছড়িয়ে পড়ে। পুরুলিয়া টাটা–জামশেদপুর ভায়া পুরুলিয়া ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কের কাঁসাই নদীর সেতুর ওপর ঠিক অফিস টাইমে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি, বকেয়া ওয়েসিস স্কলারশিপের টাকা দ্রুত প্রদান করতে হবে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে এই অবরোধ শুরু হতেই স্বাভাবিকভাবেই স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। আটকে পড়ে জামশেদপুর ও ধানবাদগামী বহু বাস,পণ্যবাহী লরি এবং ছোট গাড়ি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর উপায় না পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বহু যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই পুরুলিয়া শহরের দিকে রওনা দেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা তাঁদের লক্ষ্য নয়। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে কোনও সুরাহা না হওয়াতে বাধ্য হয়ে জাতীয় সড়কে বসেছেন তাঁরা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, শিক্ষাবর্ষ শেষের পথে চলে এলেও এখনও পর্যন্ত বহু ছাত্র-ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ওয়েসিস স্কলারশিপের টাকা জমা পড়েনি। আন্দোলনকারীদের একাংশ সাধারণ মানুষের এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও তাঁদের সাফ বার্তা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পথ ছাড়া হবে না।বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের আরও দাবি, বারবার বিসিডব্লিউ (BCW) দফতরে ডেপুটেশন ও ৩০ তারিখ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
এদিকে, সংগঠনের জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, স্কলারশিপের টাকা না পাওয়ায় বহু আদিবাসী পড়ুয়া আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদাসীন মনোভাব দেখাচ্ছে প্রশাসন। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে টাকা মেটানোর দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি, স্কলারশিপের টাকা অবিলম্বে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না পৌঁছালে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে, প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের পর অবশেষে পরিস্থিতির বদল ঘটে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা বিসিডব্লিউ আধিকারিক। দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন পড়ুয়ারা। এখন, প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে ঠিক কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর আন্দোলনকারীদের।
