নিউজ ডেস্ক: সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিছানায় চলে যাওয়া শরীরের জন্য কতটা ভালো? বিশেষ করে এর সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়াকে সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্রোগের কারণ বলা যায় না। তবে এই অভ্যাস নিয়মিত হলে হজমের সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে।
পাশাপাশি চিকিৎসকের মতে, খাওয়ার পর শুয়ে পড়লে মাধ্যাকর্ষণের সাহায্যে পাকস্থলীর খাবার ও অ্যাসিড নিচে থাকার সুযোগ কমে যায়। ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে রাতে বেশি পরিমাণে, তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে এই সমস্যা বাড়তে পারে। যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা GERD-এর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা, মুখে টক স্বাদ, কাশি কিংবা রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই কারণেই রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে অন্তত তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। রাতে তুলনামূলক হালকা খাবার খাওয়াও উপকারী বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে হৃদ্যন্ত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। একদিন রাতে খাবার খাওয়ার পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লেই হার্টের সমস্যা হবে, এমনটা নয়। বরং নিয়মিত দেরিতে খাওয়া, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন থেকে বিপাকীয় ও হৃদ্যন্ত্র সংক্রান্ত ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনিয়মিত ঘুম ও খাবারের সময় স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ, শুধু রাতের খাবারের সময় নয়—নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার এবং শরীরচর্চাকেও দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে হবে। এমনকি রাতে ভারী খাবারের পর বুকে অস্বস্তি হলে সেটিকে শুধুই গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষত যাঁরা সকালে হাঁটতে যান বা জগিং করেন, তাঁদের জন্য রাতের খাবারটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতে বেশি বেশি খেলে পেট ফুলে থাকবে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে। তাই রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম জল খাওয়া যেতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে ঘাম, বমি বমি ভাব কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
