নিউজ ডেস্ক: ইউরোপে পৌঁছনোর স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে উঠল। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে যাওয়া একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
সেনেগালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও নৌকাটিতে মোট কত জন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কত জন নিখোঁজ, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। উদ্ধারকাজ চলায় মৃতের সংখ্যাকে আপাতত প্রাথমিক হিসাব হিসাবেই দেখছে প্রশাসন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, সেনেগালের রাজধানী ডাকার থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে কেবেমের এলাকার কাছে লুমপুল বালিয়াড়ির সংলগ্ন সমুদ্রে নৌকাটি ডুবে যায়। মৃতদের অধিকাংশই কেবেমের বিভাগের লেওনা ও থিয়েপ্পে এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রত্যেকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এই দুর্ঘটনা ফের সামনে এনে দিল পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছনোর বিপজ্জনক আটলান্টিক অভিবাসনপথের বাস্তবতা। উন্নত জীবন, কাজের সুযোগ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় প্রতি বছর বহু মানুষ সেনেগাল-সহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।
সেই যাত্রায় ভরসা বলতে অনেক সময় ছোট, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা মাছ ধরার নৌকা। উত্তাল সমুদ্র পেরিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। প্রাণ যায় বহু মানুষের। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘ওয়াকিং বর্ডার্স’-এর হিসাব অনুযায়ী, 2026 সালের প্রথম পাঁচ মাসেই এই আটলান্টিক পথে অন্তত 635 জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই পথে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়লেও বিপজ্জনক যাত্রা থামানো যাচ্ছে না। ঘটনার ঠিক এক দিন আগেই সেনেগালের উপকূলে স্পেনগামী আরও একটি ছোট নৌকা আটক করে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। ওই নৌকায় ছিলেন 142 জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাঁদের মধ্যে 23 জন মহিলা, 2 জন শিশু এবং 2 জন সদ্যোজাত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
যাত্রীদের মধ্যে সেনেগাল ছাড়াও গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি এবং নাইজেরিয়ার নাগরিকেরা ছিলেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এই বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকাতে সেনেগাল সরকার পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের এল ইয়েরো দ্বীপেও বেড়েছে অভিবাসীদের আগমন। নভেম্বরের শুরু থেকে প্রায় 30টি নৌকায় 3,300-র বেশি মানুষ সেখানে পৌঁছেছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দ্বীপ কর্তৃপক্ষ।
সেনেগাল, মৌরিতানিয়া এবং মরক্কো উপকূলে নজরদারি ও টহল বাড়ানোয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একাংশ এখন আরও দক্ষিণের গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ ও গিনির উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করছেন। তাতে সমুদ্রপথের দূরত্ব বাড়ছে, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কাও। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় এই প্রাণঘাতী যাত্রা যে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, সেনেগালের সাম্প্রতিক নৌকাডুবি ফের তারই প্রমাণ।




