নিউজ ডেস্ক: জাপানের মধ্যাঞ্চলে রবিবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়াল। কম্পনের জেরে একাধিক দোকানের কাচের জানলা ভেঙে যায়। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে কাচের টুকরো। দোকানের তাক থেকে বই পড়ে ছড়িয়ে যায় মেঝেতে। আতঙ্কে বাড়ি ও বহুতল থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর। ভূমিকম্পের পরে একাধিক ছোট কম্পনও অনুভূত হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৭ বলে জানিয়েছে। অন্য দিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। রবিবার রাত ১টা ৪ মিনিটে কম্পন শুরু হয়। শিজুওকা প্রদেশের মাটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল। সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে আইচি প্রদেশে। আইচি ও শিজুওকা পাশাপাশি অবস্থিত।
কম্পনের প্রভাব পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। হামামাতসু শহর ছাড়াও কিয়োটো ও নারার মতো জাপানের প্রাচীন রাজধানী এবং ইয়ামানাশি ও গিফু প্রদেশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। ইয়ামানাশিতেই রয়েছে জাপানের বিখ্যাত মাউন্ট ফুজি। তবে টোকিয়োতে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি।
জাপানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলির সম্প্রচারে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন দোকানের কাচের জানলা ভেঙে গিয়েছে। রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে কাচের টুকরো। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে বিপুল সংখ্যক বই মেঝেতে পড়ে যায়। আহতদের মধ্যে কয়েক জন রয়েছেন, যাঁরা কম্পনের সময় আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। আগামী এক সপ্তাহ, বিশেষ করে পরবর্তী দু’তিন দিন আরও শক্তিশালী কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংস্থার আধিকারিক আয়াতাকা এবিতা সাংবাদিকদের বলেন, “ভূমিধস, পাথর গড়িয়ে পড়া এবং বৃষ্টির কারণে তৈরি হতে পারে এমন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।” অর্থাৎ, ভূমিকম্পের পরে বৃষ্টি হলে পাহাড়ি এলাকায় ধস বা পাথর গড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নানকাই ট্রাফ প্লেট এলাকায় এখনও কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি বলে জানিয়েছেন এবিতা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ওই অঞ্চলে ভবিষ্যতে বড়ো মাপের ভূমিকম্প হতে পারে। তবে রবিবারের কম্পনের সঙ্গে সেই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কোনও যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তার কারণে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে রেললাইন বা রেল পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই সেখানে বাসিন্দাদের বাড়িতে পানীয় জল, খাবার ও ব্যাটারি মজুত রাখতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, সে বিষয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়।




