নিউজ ডেস্ক: সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের পাতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। কলকাতা পুরসভা এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গের জেলা স্তরের স্কুলগুলিতেও মিড-ডে মিল সরবরাহের সার্বিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ অর্থাৎ ইসকনের সহযোগী সংস্থা ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-এর হাতে।
কেন্দ্রের ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পের আওতায় এই সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি নীতিগত অনুমোদন জানিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিকাশ ভবন।
তবে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে একসঙ্গে এই পরিষেবা শুরু হচ্ছে না। পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে জেলাগুলিতে এই ব্যবস্থা কার্যকর করবে অন্নামৃত ফাউন্ডেশন। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক এবং জিটিএ-র শিক্ষা বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।
জেলা প্রশাসনকে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পড়ুয়াদের খাবার তৈরির জন্য প্রতিটি জেলায় বড় মাপের আধুনিক ‘সেন্ট্রাল কিচেন’ বা কেন্দ্রীভূত রান্নাঘর তৈরি করা হবে। এর জন্য জেলা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উপযুক্ত সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে সংস্থাকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্লকে কতগুলি স্কুল রয়েছে, সেখানে পড়ুয়াদের বর্তমান উপস্থিতির সংখ্যা কত এবং স্কুলগুলির ভৌগোলিক অবস্থান ঠিক কোথায় সেই সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থা রান্নাঘর ও গাড়ি চলাচলের পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে কাজ শুরুর জন্য সরকারি ছাড়পত্র বা ‘লেটার অফ অথরিটি’ জারি করা হবে।
উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের স্কুলে পড়ুয়াদের খাবারের গুণগত মান বাড়াতে কলকাতা ছাড়াও জেলায় জেলায় ইসকনকে যুক্ত করার পক্ষপাতী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বর্তমানে কলকাতার বহু সরকারি স্কুলে এই ব্যবস্থাতেই নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খাবার তৈরির পরিচ্ছন্নতা ও স্বাদ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে। এর আগে হাওড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলায় এই কাজের জন্য ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’-কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য। এবার অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের হাত ধরে গোটা রাজ্যেই মিড-ডে মিলের পরিকাঠামোয় এক বড়সড় রূপান্তর ঘটতে চলেছে, যা স্কুলস্তরে খাবারের মান নিয়ে ওঠা দীর্ঘদিনের অভিযোগের স্থায়ী সমাধান করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের আধিকারিকেরা।




