স্পোর্টস ডেস্ক: তিন গোলের ব্যবধানও শেষ পর্যন্ত জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারল না ইন্টার মায়ামিকে। নিজেদের মাঠে শার্লটের বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে আটকে গেল লিয়োনেল মেসির দল। প্রথমার্ধে দুরন্ত ফুটবলে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল মায়ামি। কিন্তু বিরতির পর রক্ষণে একের পর এক ভুলে সেই সুবিধা হারায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে গোল করে শার্লটকে সমতা এনে দেন রোদলফো আলোকো। তবে এই ড্রয়ের পরেও পূর্বাঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে পেরেছে মায়ামি। ফলে প্লে-অফের প্রথম দুই পর্বে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা পাবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
মায়ামির হয়ে প্রথমার্ধে তিনটি গোলের নেপথ্যেই ছিল আর্জেন্তিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়কের অবদান। ১৪ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে বল পেয়ে যান শার্লটের লুকা দে লা তোরে। তাঁর হেড ঠিকমতো দূরে না যাওয়ায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইয়ান ফ্রে। ৩৩ মিনিটে ফের মেসির কর্নার। এ বার বলের নাগাল পেয়ে যান লুইস সুয়ারেজ। কাছের পোস্টে অরক্ষিত অবস্থায় হেড করে ব্যবধান বাড়ান উরুগুয়ের তারকা। বিরতির ঠিক আগে রদ্রিগো দে পল দূরপাল্লার নিচু শটে তৃতীয় গোলটি করেন। শার্লটের রক্ষণ তাঁকে আটকানোর কোনও চেষ্টাই কার্যত করতে পারেনি।
তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি শার্লট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান কমান লিয়েল আবাদা। অ্যাশলি ওয়েস্টউডের বাড়ানো বল ধরে টাইগার স্মলস কাটব্যাক করেন। সেখান থেকে জোরালো শটে গোল করেন আবাদা। ৫৫ মিনিটে পেপ বিয়েলের সঙ্গে দেওয়াল-খেলার পর আবারও গোল করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে ৩-২ হয়ে যায় ম্যাচের ফল। মায়ামির রক্ষণ তখন কার্যত দিশাহারা।
শেষ দিকে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপায় শার্লট। ৯০ মিনিটে স্মলসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বল পেয়ে যান রোদলফো আলোকো। দেরি না করে জালে বল পাঠিয়ে দেন তিনি। সংযোজিত সময়ে মেসির শট পোস্টে লাগায় জয়সূচক গোলের সুযোগ নষ্ট হয় মায়ামির। উল্টে আলোকোর একটি জোরালো শট বাইরে জালের দিকে লাগে। শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলেই শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ের ফলে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে থাকল মায়ামি। তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ ইংল্যান্ড রেভলিউশন অরল্যান্ডোর কাছে ১-০ গোলে হেরে ৫৮ পয়েন্টেই থেমেছে। ফলে মায়ামির প্লে-অফে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত হয়েছে। প্রথম প্রতিপক্ষ কলম্বাস ক্রু। অন্য দিকে, সিনসিনাটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগের সর্বকালীন পয়েন্টের রেকর্ড গড়েছে ন্যাশভিল।
মেসি এ দিন গোল করতে পারেননি। তবে মরশুমে তাঁর ২৬টি গোল টানা দ্বিতীয়বার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল রেখেছে। পেতার মুসার এফসি ডালাসের হয়ে পাঁচ গোল না করলে মেসিকে টপকানো সম্ভব হবে না। তাই ব্যক্তিগত সাফল্যের দিক থেকেও মরশুমের শেষ ম্যাচে বড় সুবিধা পেলেন আর্জেন্তিনীয় মহাতারকা।




