নিজস্ব প্রতিবেদন, মুম্বই: দীপাবলির আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন কত শত ভিডিওই না ভাইরাল হয়। তবে তার মধ্যে কিছু এমন ভিডিও থাকে, যা মানুষের মন ছুঁয়ে যায় এবং মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সম্প্রতি মুম্বই থেকে তেমনই একটি মন ভালো করা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের এক ডেলিভারি এজেন্ট ভুলবশত এক গ্রাহকের বাড়ির সামনের সুন্দর রঙ্গোলি নষ্ট করে ফেলেন। কিন্তু সেখান থেকে পালিয়ে না গিয়ে, নিজের চরম ব্যস্ততার মাঝেই তিনি যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন, তাতেই মুগ্ধ গোটা নেটদুনিয়া।
ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের বাসিন্দা দ্রাষ্টি নামের এক তরুণীর বাড়ির সামনে। দীপাবলি উপলক্ষে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম ও নিখুঁত যত্ন সহকারে বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারের সামনে একটি রঙিন রঙ্গোলি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে তিনি লক্ষ্য করেন, রঙ্গোলিটি কেমন যেন অন্যরকম বা কিছুটা ঘেঁটে গিয়েছে। কৌতূহলী হয়ে দ্রাষ্টি যখন বাড়ির দরজার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন, তখন পুরো বিষয়টি তাঁর সামনে আসে।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফ্লিপকার্টের ওই ডেলিভারি কর্মী একটি পার্সেল নিয়ে দ্রাষ্টির ফ্ল্যাটের দরজায় এসে বেল বাজান। দ্রাষ্টি দরজা খুলে নিজের অর্ডারটি বুঝে নেন এবং দরজা বন্ধ করে দেন। ঠিক এর পরেই ঘটে সেই ‘দুর্ঘটনা’। চলে যাওয়ার জন্য ওই ডেলিভারি কর্মী পিছন ফিরে পা বাড়াতেই অসাবধানতাবশত তাঁর পায়ের কোণ লেগে রঙ্গোলির একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
https://www.instagram.com/reel/DfZ0IYmgl_-/?xtok=NnF1cGxpZ3k5OXQ0
সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকেই দায় না নিয়ে চলে যান। কিন্তু এই ডেলিভারি কর্মী তা করেননি। ভুল বুঝতে পেরে তিনি থমকে দাঁড়ান। এরপর ডেলিভারির কড়া সময়সীমার কথা ভুলে, পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়েই দরজার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন। পরম যত্নে হাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়া রংগুলো কুড়িয়ে নিয়ে আবার আগের জায়গায় সাজাতে শুরু করেন। নিখুঁতভাবে প্রতিটি খুঁটিনাটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। নষ্ট হয়ে যাওয়া নকশাটি অনেকটাই আগের মতো করে দিয়েই তবে সেখান থেকে যান।
দ্রাষ্টি এই পুরো সিসিটিভি ক্লিপটি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করে লিখেছেন, "আসলে পার্সেল দেওয়ার সময় ফ্লিপকার্টের ডেলিভারি বয় ভুল করে আমার রঙ্গোলিতে পা দিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেটিকে ওভাবে ফেলে না রেখে, তিনি সময় নিয়ে খুব যত্ন সহকারে ঠিক করে দেন। তিনি এমনভাবে রং মেলাচ্ছিলেন, যাতে প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় ঠিক থাকে। সত্যি বলতে, আমি এতটা সুন্দর ও সহানুভূতিশীল আচরণের আশা করিনি। আমি অনেক সময় নিয়ে রঙ্গোলিটা বানিয়েছিলাম। আর কেউ একজন না বলা সত্ত্বেও সেটাকে এভাবে গুছিয়ে দিলেন—এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। আপনি যেই হোন না কেন, আমার দিনটা সুন্দর করে তোলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।"
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। নেটিজেনরা ওই ডেলিভারি এজেন্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "বেচারা হয়তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে গ্রাহক যদি অভিযোগ করে দেন! কারণ প্রতিদিন তাঁদের কর্মক্ষেত্রে যে চাপ সহ্য করতে হয়, তাতে এই ভয়টা থাকা স্বাভাবিক।" অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "কী মিষ্টি একটা আচরণ! ডেলিভারি দিতে দেরি হলে হয়তো পরের গ্রাহক তাঁর ওপর চিৎকার করতেন। তা সত্ত্বেও তিনি এই কাজটার জন্য সময় বের করলেন।" অনেকেই আবার ফ্লিপকার্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন এই সততা ও সুন্দর আচরণের জন্য ওই কর্মীকে পুরস্কৃত করা হয়।
এই ছোট্ট ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, উৎসবের আসল আনন্দ শুধু আলোর রোশনাইয়ে নয়, বরং মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।




