নিউজ ডেস্ক: সাগরের জল ছুঁয়ে যে জীবটি ডাঙায় উঠেছিল বিক্রির উদ্দেশ্যে, তাকেই আবার ফিরিয়ে দেওয়া হলো নীল জলের অতলে। দিল্লির এক দম্পতির এমন অদ্ভুত কাণ্ড ঘিরেই এখন তোলপাড় সামাজিক মাধ্যম। সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে জেলেদের থেকে জ্যান্ত মাছ কিনে তা পুনরায় সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেউ দেখছেন চূড়ান্ত সহমর্মিতা হিসেবে, আবার কারও চোখে এটি অর্থহীন লোকদেখানো ও অবাস্তব এক আচরণ।
তামিলনাড়ুর শেষ প্রান্ত ধনুষ্কোড়ির সৈকতে বেড়াতে গিয়ে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত নেন দিল্লির ওই পর্যটক দম্পতি। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে নগদ টাকা দিয়ে তাঁরা কিনে নেন প্রায় পাঁচ কেজি জ্যান্ত মাছ। তবে রান্নার বাসনে তোলার জন্য নয়, সেই মাছগুলিকে তাঁরা নিয়ে যান সৈকতের ধারে এবং একে একে ছেড়ে দেন সমুদ্রের জলে। এই পুরো দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করেন অ্যান্ড্রি দারিজ নামের এক ব্যক্তি। তিনিই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ ঘটনাটি তুলে ধরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
https://x.com/AndruDarlz/status/2118933772657918054?a=Y0IlVN-ERjft77A_rU4&s=20
দারিজের দাবি ছিল, সমুদ্রের এই ধরনের কৃত্রিম দয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, “ওদের মস্তিষ্কে বোধহয় কিছুটা অক্সিজেনের অভাব হয়েছিল। কাণ্ডজ্ঞান আসলে সবার জন্মগত অধিকার নয়।” পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুতই ১৫ হাজারের বেশি লাইক পেরিয়ে যায়। একই সঙ্গে তৈরি হয় বিতর্কের জোরালো আবহ।
নেটিজেনদের একাংশ দারিজের মতো ওই দম্পতির আচরণকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে দেগে দিলেও, এক বড় অংশ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের পাশে। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস ও ইচ্ছাকে এভাবে উপহাস করা অনুচিত। হতে পারে সেই মাছগুলি ফের অন্য কোনো জেলের জালে ধরা পড়বে বা শিকারি প্রাণীর পেটে যাবে, কিন্তু যদি একটি মাছও বেঁচে যায়, তবে ওদের এই প্রচেষ্টা সার্থক। ওই দম্পতি অন্তত এই তৃপ্তি নিয়ে ঘুমাতে পারবেন যে তাঁরা কাউকে বাঁচার আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন।
অন্য এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন নীতিপুলিশি নিয়ে। তাঁর কথায়, “ওরা তো কারও কোনো ক্ষতি করেননি, নিজের বিশ্বাস থেকেই কাজটা করেছেন। অন্যের কাজের বিচার করতে বসার আগে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি খতিয়ে দেখা দরকার।”
জীবপ্রেমের আবেগ বনাম বাস্তবের রূঢ় নিয়ম এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ধনুষ্কোড়ির সৈকতের পাঁচ কেজি মাছের মুক্তি এখন নেটদুনিয়ায় সহমর্মিতা ও বাস্তববোধের এক অমীমাংসিত বিতর্কের রূপ নিয়েছে।




