নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আবহে ঘরের মায়া ত্যাগ করে যাঁরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, আলোর উৎসবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতির বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীপাবলির দিন উত্তর ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত হিঙ্গলগঞ্জে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে কর্তব্যরত জওয়ানদের হাতে মিষ্টি ও শুভেচ্ছা তুলে দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
হিঙ্গলগঞ্জের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখতে বিএসএফ, এসএসবি এবং রাজ্য পুলিশের জওয়ানরা যে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন, তাকে কুর্নিশ জানাতে আগামী নতুন বছর থেকেই চালু হচ্ছে রাজ্য সরকারের বিশেষ সম্মাননা ‘সীমা মিত্র সম্মান’। যাঁরা সীমান্তে অসামান্য সাহস, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দেবেন, তাঁদের এই সম্মানে ভূষিত করা হবে।
অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে। কোনও অবস্থাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে বোঝাপড়া ও যৌথ সমন্বয় আরও নিবিড় করার নির্দেশ দেন তিনি।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তোলেন, অতীতে সীমান্ত সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অসহযোগিতা করা হয়েছিল। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে দীর্ঘদিন টালবাহানা চলেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই জমি জটের সমস্ত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করেছে, যার ফলে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ গতি পেয়েছে। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর বিএসএফ সংক্রান্ত নানা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে রক্ষক বাহিনীকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হলেও তাঁর প্রশাসন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে দায়বদ্ধ।
একই সঙ্গে আমজনতার নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ‘১১২’ নম্বর জরুরি পরিষেবাকে আরও সক্রিয় করে তোলার বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। যাতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।




