নিউজ ডেস্ক: একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা কিভাবে গোটা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে, তারই নজির তৈরি হল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েতে। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় থেকে শুরু করে সরকারি পেনশন ও স্বাস্থ্যখাতের বিপুল অর্থ, সবকিছু নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হলেও ক্ষোভ কমার বদলে ক্রমশ বাড়ছে জনরোষ। আর এই আর্থিক বিপর্যয়ের আঁচ গিয়ে পড়েছে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মহলেও।
প্যারাগুয়ের অন্যতম বড় ডিজিটাল ঋণদাতা সংস্থা ইউএনও ব্যাংকের আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। গত ৩ নভেম্বর প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। আর্থিক নিরীক্ষায় দেখা যায়, ব্যাংকটির মূলধন নির্ধারিত আইনি সীমার অর্ধেকেরও নিচে নেমে গিয়েছে। পাশাপাশি মালিকপক্ষের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। এরপরেই ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ করে নিয়ন্ত্রকদের অধীনে নিয়ে আসা হয়।
এই ঘটনার জেরে প্রায় ২৯ লক্ষ ৪০ হাজার গ্রাহক তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যাই পড়েন।প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬১ লক্ষ্য। অর্থাৎ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবের মুখে পড়েছেন। ব্যাংকটিতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ মিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্বে থাকা সংস্থা আইপিএস এর বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। যদিও আমানত সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৭% গ্রাহকের টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও অর্থ বন্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২ লক্ষ গ্রাহককে আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এই আর্থিক বিপর্যয়ের জেরে ক্ষমতা হারিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। ইউএনও ব্যাংকের মালিকাধীন সংস্থার সঙ্গে তাঁর অতীতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যাংকটিতে জমা রাখা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
প্রথমে পদত্যাগের ঘোষণা করলেও ৬ নভেম্বর সেনেটে অভিশংসন প্রক্রিয়ায় তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। ৮ নভেম্বরের খবর অনুযায়ী, আদালত তাঁকে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সামরিক বাহিনীর একটি কেন্দ্রে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব সামলাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়াই এখন তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।




