JAZZBAAT 24 BANGLA
০৮ নভে ২০২৬, ১১:২৫ এএম
Breaking
পাতাল থেকে ক্ষীরগ্রামে মা যোগাদ্যা! মহীরাবণ বধের পর কোথায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেবীকে রামচন্... মা কালীর আরাধনার সঙ্গে আলোর উৎসবের কী সম্পর্ক? মা কালীর চার হাতে লুকিয়ে কোন রহস্য? খড়্গ থেকে ছিন্নমুণ্ড, প্রতিটি হাতের রয়েছে গভীর তাৎপর্... সোনার অলংকারে কোন অপরূপ রূপে ধরা দেবেন মা? বড়মার দর্শনে অধীর অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ ভক্ত! সময়ও যাঁর কাছে পরাজিত! মহাকাল ও মহাকালীর যুগল সত্তার মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে সৃষ্টির আদি রহ... দক্ষিণাকালী ও শ্যামাকালী কি একই? রূপ, আরাধনা ও মাহাত্ম্যে কোথায় পার্থক্য, জানুন অজানা কথা ভালভার্দে-গুলেরের গোলের ঝলক, এমবাপ্পের জাদুতে বিধ্বস্ত ভ্যালেন্সিয়া! Lal Krishna Advani : দীপাবলির দিনেই ৯৯-এ পা আডবাণীর! প্রবীণ নেতাকে ঘিরে বিশেষ বার্তা মোদীর... পাতাল থেকে ক্ষীরগ্রামে মা যোগাদ্যা! মহীরাবণ বধের পর কোথায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেবীকে রামচন্... মা কালীর আরাধনার সঙ্গে আলোর উৎসবের কী সম্পর্ক? মা কালীর চার হাতে লুকিয়ে কোন রহস্য? খড়্গ থেকে ছিন্নমুণ্ড, প্রতিটি হাতের রয়েছে গভীর তাৎপর্... সোনার অলংকারে কোন অপরূপ রূপে ধরা দেবেন মা? বড়মার দর্শনে অধীর অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ ভক্ত! সময়ও যাঁর কাছে পরাজিত! মহাকাল ও মহাকালীর যুগল সত্তার মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে সৃষ্টির আদি রহ... দক্ষিণাকালী ও শ্যামাকালী কি একই? রূপ, আরাধনা ও মাহাত্ম্যে কোথায় পার্থক্য, জানুন অজানা কথা ভালভার্দে-গুলেরের গোলের ঝলক, এমবাপ্পের জাদুতে বিধ্বস্ত ভ্যালেন্সিয়া! Lal Krishna Advani : দীপাবলির দিনেই ৯৯-এ পা আডবাণীর! প্রবীণ নেতাকে ঘিরে বিশেষ বার্তা মোদীর...

পাতাল থেকে ক্ষীরগ্রামে মা যোগাদ্যা! মহীরাবণ বধের পর কোথায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেবীকে রামচন্দ্র?

পাতাল থেকে ক্ষীরগ্রামে মা যোগাদ্যা! মহীরাবণ বধের পর কোথায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেবীকে রামচন্দ্র?
পাতাল থেকে ধরাধামে মা যোগাদ্যার আগমনের রহস্য জানেন? ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের কাছে ক্ষীরগ্রাম। ছোট্ট এই জনপদকে ঘিরে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি, ইতিহাস এবং লোকবিশ্বাস। এখানেই রয়েছে বাংলার অন্যতম প্রাচীন লৌকিক দেবী মা যোগাদ্যার মন্দির। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম হিসেবেও পরিচিত এই তীর্থক্ষেত্র। কথিত আছে, এখানে সতীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পড়েছিল। রামায়ণের মহীরাবণের কাহিনির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই দেবীর পরিচয়। তাই শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, প্রাচীন সাহিত্য ও স্থানীয় ইতিহাসের দিক থেকেও ক্ষীরগ্রামের গুরুত্ব বিশেষ।

ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যাকে অনেকেই রামায়ণে উল্লিখিত মহীরাবণের আরাধ্য দেবী ভদ্রকালী হিসেবে পুজো করেন। দেবী এখানে রত্নবেদিতে কালীমন্ত্রে পূজিতা হন। কষ্টিপাথরের তৈরি দেবীমূর্তির রূপ মহিষাসুরমর্দিনী। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সতীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পড়েছিল এই স্থানেই।

কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র তাঁর ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে লিখেছেন, ‘ক্ষীরগ্রামে ডানি পা’র অঙ্গুষ্ঠ বৈভব। যুগাদ্যা দেবতা ক্ষীরখণ্ডক ভৈরব।’ দেবী যোগাদ্যার ভৈরবের নাম ক্ষীরখণ্ডক। সেই সূত্রেই এই জনপদের নাম হয়েছে ক্ষীরগ্রাম বলে মনে করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এই জনপদ পরিচিত ছিল। একসময় আশপাশের বহু গ্রামেও দেবী যোগাদ্যার পুজোর প্রচলন ছিল। বর্ধমানের অন্তত ৫০টি গ্রামে দেবীর আরাধনা হলেও ক্ষীরগ্রামকেই তাঁর উদ্ভবস্থল হিসেবে মানা হয়।

ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মন্দিরের ইতিহাসে রয়েছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কথিত আছে, প্রাচীন যোগাদ্যা মূর্তিটি একসময় হারিয়ে গিয়েছিল। পরে বর্ধমানের মহারাজা কীর্তি চন্দ এই গ্রামে দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করান। সম্ভবত তাঁরই নির্দেশে হারিয়ে যাওয়া মূর্তির আদলে নতুন একটি দশভুজা মহিষমর্দিনী মূর্তি তৈরি করেন দাঁইহাটের প্রস্তরশিল্পী নবীনচন্দ্র ভাস্কর।

তবে নতুন মূর্তিটি বছরের অধিকাংশ সময় রাখা হত ক্ষীরদিঘির জলের নীচে। শুধু ৩১ বৈশাখ জল থেকে তুলে এনে সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য রাখা হত। পরে ক্ষীরদিঘি সংস্কারের সময় সেই জল থেকেই উদ্ধার হয় বহুদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া পুরনো যোগাদ্যা মূর্তিটি। প্রাচীন বিগ্রহ ফিরে পাওয়ার আনন্দে গ্রামের বাসিন্দারা আশপাশের এলাকার মানুষের সহযোগিতায় তৈরি করেন আরও একটি মন্দির। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় উদ্ধার হওয়া পুরনো মূর্তিটিকে।

এর ফলে এখন ক্ষীরগ্রামে গেলে বছরের অন্যান্য সময়েও ভক্তরা দেবীর দর্শন করতে পারেন। তবে বৈশাখ সংক্রান্তিতে দুই মন্দিরেই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। পুরনো মন্দিরের তোরণদ্বারের স্থাপত্যও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

মা যোগাদ্যাকে ঘিরে সবচেয়ে পরিচিত কাহিনিগুলির একটি জড়িয়ে রয়েছে রামায়ণের পাতালপর্বের সঙ্গে। স্থানীয় জনশ্রুতি এবং কৃত্তিবাসী রামায়ণের বর্ণনায় উঠে আসে রাবণপুত্র মহীরাবণের কাহিনি। কথিত আছে, মহীরাবণ রাম ও লক্ষ্মণকে বন্দি করে পাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে নিজের আরাধ্যা দেবী ভদ্রকালীর সামনে তাঁদের বলি দেওয়ার আয়োজন করেন তিনি।

কিন্তু মহীরাবণের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। কাহিনি অনুযায়ী, হনুমান মাছির রূপ ধরে দেবীর কাছে পৌঁছে রাম ও লক্ষ্মণের পরিচয় জানিয়ে দেন। তখন দেবীই হনুমানকে বুদ্ধি দেন, মহীরাবণ যখন রামকে দেবীর সামনে প্রণাম করতে বলবেন, তখন রাম যেন জানান যে তিনি প্রণাম করতে জানেন না। মহীরাবণ নিজে প্রণাম করার পদ্ধতি দেখাতে নত হলেই তাঁকে বধ করার সুযোগ তৈরি হবে।

দেবীর পরামর্শ মতোই মহীরাবণের মৃত্যু হয়। এরপর আরও একটি জনশ্রুতি রয়েছে। বলা হয়, পাতাল থেকে রাম ও লক্ষ্মণকে নিয়ে বেরোনোর সময় মা ভদ্রকালী হনুমানকে জানান, তাঁকে একা ফেলে যাওয়া যাবে না। পৃথিবীর মধ্যস্থলে যেখানে, তাঁকে সেখানে নিয়ে যেতে হবে। এরপর হনুমান সুড়ঙ্গপথে রাম-লক্ষ্মণ ও দেবীকে নিয়ে ক্ষীরগ্রামে আসেন। এই কাহিনির সূত্র ধরেই অনেকে মনে করেন, মহীরাবণ বধের পর রামচন্দ্রই এখানে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ক্ষীরগ্রামের পরিচয় শুধু মন্দিরকেন্দ্রিক নয়। একসময় এই জনপদে বেশ কয়েকটি চতুষ্পাঠী ছিল বলে জানা যায়। স্থানীয় ইতিহাসচর্চাকারীদের দাবি, বহু পণ্ডিত এখানে বিদ্যাচর্চা করতেন। বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথিও এই অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছে। গবেষক যজ্ঞেশ্বর চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষীরগ্রামে অন্তত ৪০টি যোগাদ্যা বন্দনার পুঁথির সন্ধান মিলেছে। তাঁর মতে, কবি কৃত্তিবাসই প্রথম যোগাদ্যা বন্দনা রচনা করেছিলেন। তাঁর লেখায় মহীরাবণ বধের পর দেবী ভদ্রকালী বা যোগাদ্যাকে রামচন্দ্রের প্রতিষ্ঠার কাহিনি উঠে এসেছে। ফলে ক্ষীরগ্রামের ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও পুঁথিচর্চার ইতিহাসেও এই জনপদের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মন্দিরে বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের সমাগম হয় বৈশাখ মাসে। তবে মূল পুজোর আগে, ২৭ বৈশাখ থেকেই উৎসবের সূচনা হয়। সেদিন থেকে দেবীর সামনে শুরু হয় রামায়ণ গান। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে হয় দেবীর বন্দনাগান। দূরদূরান্তের বহু মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে ক্ষীরগ্রামে আসেন।

বৈশাখ সংক্রান্তির দিন দুই মন্দিরেই বিশেষভাবে দেবীর আরাধনা হয়। দেবীকে ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনি ও ভক্তদের আশীর্বাদ পাওয়ার জনশ্রুতি আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ফেরে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মা যোগাদ্যা অত্যন্ত জাগ্রত। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর সংক্রান্তিতে অসংখ্য ভক্ত তাঁর কাছে পুজো দিতে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের অনেকের দাবি, ক্ষীরগ্রামে দেবীর পুজো শুরু হয়েছিল ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। আর নতুন মন্দিরটি তৈরি হয় ২০১১ সালে।

দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রাত্রিবাসের ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্ষীরদিঘির পাড়ে নতুন যোগাদ্যা মন্দিরের কাছেই রয়েছে যোগাদ্যা গেস্ট হাউস। পৌরাণিক কাহিনি, প্রাচীন পুঁথি, হারিয়ে যাওয়া বিগ্রহের ফিরে আসা এবং শতাব্দীপ্রাচীন পুজোর ঐতিহ্য সব মিলিয়ে ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা শুধু একটি মন্দিরের দেবী নন, বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় ইতিহাসেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

4 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

মা কালীর আরাধনার সঙ্গে আলোর উৎসবের কী সম্পর্ক?
ধর্মকর্ম

মা কালীর আরাধনার সঙ্গে আলোর উৎসবের কী সম্পর্ক?

নিউজ ডেস্ক: চারদিকে আলোর রোশনাই, সারি সারি প্রদীপ, রঙিন আলপনা আর উৎসবের আনন্দ। কোথাও ধূপধুনোর গন্ধে মুখরিত কালীমন্দির, কোথাও আবার লক্ষ্মী-গণেশের আরাধনায় ব্যস্ত পরিবার। একই রাত, অথচ উৎসবের রীতিতে কত বৈচিত্র্য! বাংলায় যে দ...

০৮ নভে ২০২৬, ১০:৫০ এএম · 3 মিনিট
মা কালীর চার হাতে লুকিয়ে কোন রহস্য? খড়্গ থেকে ছিন্নমুণ্ড, প্রতিটি হাতের রয়েছে গভীর তাৎপর্য!
ধর্মকর্ম

মা কালীর চার হাতে লুকিয়ে কোন রহস্য? খড়্গ থেকে ছিন্নমুণ্ড, প্রতিটি হাতের রয়েছে গভী...

নিউজ ডেস্ক: গলায় নরমুণ্ডের মালা, মুক্তকেশী রূপ, রক্তবর্ণ জিভ আর চার হাতে চার ভিন্ন প্রতীক। মা কালীর এই চিরপরিচিত রূপের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন। কখনও তিনি ভয়ংকরী, কখনও অসুরবিনাশিনী, আবার কখনও সন্তানকে আগল...

০৮ নভে ২০২৬, ১০:৪৪ এএম · 3 মিনিট
সময়ও যাঁর কাছে পরাজিত! মহাকাল ও মহাকালীর যুগল সত্তার মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে সৃষ্টির আদি রহস্য?
ধর্মকর্ম

সময়ও যাঁর কাছে পরাজিত! মহাকাল ও মহাকালীর যুগল সত্তার মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে সৃষ্টি...

সময়, সৃষ্টি নাকি মহাবিশ্বের আদি স্পন্দন—সবকিছুর নেপথ্যে কে? শাক্ত দর্শন ও তন্ত্রসাধনায় মহাকালকে মনে করা হয় সময়েরও অতীত এক অব্যক্ত পুরুষ সত্তা। অন্যদিকে, মহাশক্তি কালীর সঙ্গে তাঁর যুগল সত্তার মধ্যেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের গভীর রহস্য।

০৮ নভে ২০২৬, ১০:৩৬ এএম · 2 মিনিট
দক্ষিণাকালী ও শ্যামাকালী কি একই? রূপ, আরাধনা ও মাহাত্ম্যে কোথায় পার্থক্য, জানুন অজানা কথা
ধর্মকর্ম

দক্ষিণাকালী ও শ্যামাকালী কি একই? রূপ, আরাধনা ও মাহাত্ম্যে কোথায় পার্থক্য, জানুন অজ...

নিউজ ডেস্ক: মা কালী শক্তির এক অনন্য প্রতীক। কখনও তিনি ভয়ংকরী, কখনও তিনি করুণাময়ী; কখনও অসুরবিনাশিনী, আবার কখনও ভক্তের কাছে পরম আশ্রয়দাত্রী। বাংলার ঘরে ঘরে কালীপুজোর পরিচিত নাম দক্ষিণাকালী ও শ্যামাকালী। অনেকেই মনে করেন, এ...

০৮ নভে ২০২৬, ১০:৩৩ এএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.