নিউজ ডেস্ক: আজ কালীপুজো। আলো-আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা বাংলা। আর সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নৈহাটির বড়মা। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি পর্ব। এবার ১০৩ বছরে পা দিয়েছে নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজো। প্রতি বছর বড়মাকে দর্শন করতে অগণিত মানুষের ভিড় হয় এই পুজোয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
প্রতিবারের মতো এবারও সোনার গয়নায় অপরূপ সাজে সেজে উঠবেন নৈহাটির বড়মা। চলছে মায়ের সাজসজ্জার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। কীভাবে সাজানো হচ্ছে প্রতিমাকে, মায়ের অলংকারে এবার কী কী বিশেষ আকর্ষণ থাকছে, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। রবিবার সকাল থেকেই মন্দির চত্বরেও বাড়ছে ব্যস্ততা। নৈহাটির স্টেশন চত্বর থেকে মন্দিরের রাস্তা সর্বত্রই শোনা যায় ‘জয় বড়মার জয়’ ধ্বনি।
জানা গিয়েছে, শনিবার কাকভোরে বড়মার চক্ষুদান সম্পন্ন করেছেন শিল্পী শুভেন্দু সরকার। রবিবার মধ্যরাতে হবে মূল পুজো। রাত দেড়টায় হবে পুষ্পাঞ্জলি। তার আগেই ভক্তরা মন্দিরে আসতে শুরু করেছেন। লোকমুখে শোনা যায়, ভবেশ চক্রবর্তী নামে এক বৈষ্ণব নবদ্বীপে রাসযাত্রা দেখতে গিয়ে রাধাকৃষ্ণের যুগল প্রতিমা দেখে অনুপ্রাণিত হন। এরপর নৈহাটিতে ফিরে এসে প্রায় ২১ ফুট উঁচু মাতৃপ্রতিমা তৈরি করে কালীপুজো শুরু করেন। প্রথমে এই পুজোর নাম ছিল ‘ভবেশ কালী’। কিন্তু দেবীর বিশালাকার প্রতিমা দেখে ভক্তদের মুখে মুখে তাঁর নাম হয়ে যায় ‘বড়মা’। সেই থেকেই নৈহাটির বড়মা কালীপুজো আজ বাংলা বিখ্যাত।
নৈহাটির বড়মার ভোগেও রয়েছে বিশেষ চমক। জানা গিয়েছে, কালীপুজোয় বড়মার ভোগে থাকবে খিচুড়ি, পাঁচমেশালি তরকারি, পোলাও, আলুর দম, সাদা ভাত, লুচি, মিষ্টি। হরেক রকমের জনপ্রিয় মিষ্টি দেওয়া হবে বড়মাকে। যেমন রসগোল্লা, স্বরপুরিয়া, লাড্ডু। পুজো শেষে খুলে দেওয়া হবে বড়মার ভোগের কাউন্টার।




