স্পোর্টস ডেস্ক: একের পর এক ম্যাচে জয়ের ছন্দ, প্রতিপক্ষের রক্ষণে গোলের ঝড়! লা লিগায় নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে চলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার ভ্যালেন্সিয়ার ঘরের মাঠেই তিন গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল লস ব্লাঙ্কোসরা। গত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াই আরও জমজমাট হয়ে উঠল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের ২৮ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। তাঁর জোরালো শটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লস ব্লাঙ্কোসরা। পরিসংখ্যান বলছে, লা লিগায় ভালভার্দের করা ২৬টি গোলের মধ্যে ১৬টিই এসেছে বক্সের বাইরে থেকে। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ভ্যালেন্সিয়া শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন তরুণ তুর্কি আর্দা গুলের। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ অর্থাৎ ২-০ করেন এই উদীয়মান তারকা। এই গোলের পর দলের জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিখ্যাত 'সিউউ' সেলিব্রেশনে গোল উদযাপন করতে দেখা যায়।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভ্যালেন্সিয়া। তবে রিয়ালের জমাট রক্ষণভাগের সামনে তাদের সব আক্রমণই ভেস্তে যায়। উল্টে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি। চলতি লিগে এটি এমবাপ্পের ১৩তম গোল। ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৭৯ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করা এমবাপ্পেকে ফাউল করায় ভ্যালেন্সিয়ার অধিনায়ক হোসে গায়াকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ভ্যালেন্সিয়া বাকি সময়ে আর কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
পুরো ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ৮.৯৮ রেটিং পেয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। অন্যদিকে, এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন আর্দা গুলের। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি রিয়াল মাদ্রিদের টানা অষ্টম জয়। এই জয়ের পর ১২ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান ৩০ পয়েন্ট নিয়ে গোলপার্থক্যে শীর্ষে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। তবে তারা রিয়ালের তুলনায় এক ম্যাচ কম খেলেছে।




