নিউজ ডেস্ক : সারা বছর মানুষের সঙ্গে থেকেও যাদের কপালে জোটে অবহেলা, বছরের একটি দিনে তারাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আদরের। শুধু পেট ভরে খাওয়ানোই নয়, তাদের জন্য থাকে বিশেষ সাজসজ্জা, সম্মান এবং নানা আয়োজন। যেখানে পরিচিত- অপরিচিতের ভেদাভেদ ভুলে চারপেয়ে প্রাণীদের নিয়ে মেতে উঠেছেন মানুষ।
নেপালি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের উৎসব 'তিহার'- এর দ্বিতীয় দিনটি পরিচিত 'কুকুর তিহার' নামে। দীপাবলীর সঙ্গে সাদৃশ্য থাকা এই উৎসবে প্রতিটি দিনেই আলাদা প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর রীতি রয়েছে। উৎসবের প্রথম দিনে অর্থাৎ কাগ তিহারে কাকের পুজো করা হয়। পরের দিনটি সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করা হয় কুকুরের জন্য। এদিন পোষ্য কুকুর থেকে শুরু করে পথকুকুর প্রত্যেককেই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়।
কুকুর তিহারের সকালে প্রথমে কুকুরদের স্নান করানো হয়। এরপর তাদের কপালে পরিয়ে দেওয়া হয় লাল টিকা। গলায় দেওয়া হয় রঙিন ফুলের মালা। পুজোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাদের খেতে দেওয়া হয় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার। শুধু বাড়িতে পোষা কুকুর নয়, রাস্তাতে ঘুরে বেড়ানো কুকুরদেরও বাদ দেওয়া হয় না এই আয়োজন থেকে। অনেক কুকুরের গলায় মালা দেখা যায়, তাদের নিয়ে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা।
এই উৎসবের পিছনে রয়েছে একাধিক লোকবিশ্বাস। প্রচলিত একটি কাহিনী অনুযায়ী, বনবাস শেষে রাম, লক্ষণ, সীতা অযোধ্যায় ফিরছেন এই খবর কাক ও কুকুরের মাধ্যমে পৌঁছেছিল। সেই খবরের ভিত্তিতেই অযোধ্যাবাসি তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিতে পেরেছিলেন। সেই বিশ্বাসেই কাক ও কুকুরকে বিশেষ সম্মান জানানোর প্রথা চালু হয়েছে বলে মনে করা হয়।
উৎসবের প্রথম দিন কাগ তিহারে বাড়ির সদস্যদের খাওয়ার আগেই পাতায় করে কাকদের খাবার দেওয়া রীতি রয়েছে। তবে, পাহাড়ি অঞ্চলে গত কয়েক বছরে কাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায়, কোথাও কোথাও এই প্রথা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিতু ডালিকোটি জানান, কুকুরদের স্নান করিয়ে, কপালে টিকা পরিয়ে এবং খাবার দিয়ে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। ভাই দুজের মতোই এই দিনটি তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




