নিউজ ডেস্ক: দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষায় বড় স্বস্তি, মূল বিষয়ে আটকে গেলেও পাসের সুযোগ দিচ্ছে সিবিএসই। অঙ্কের জটিল সমীকরণ বা বিজ্ঞানের কাঠিন্য দেখে আর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার দিন হয়তো ফুরোতে চলেছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বড়সড় বদল আনতে চলেছে। কোনো শিক্ষার্থী যদি অঙ্ক, বিজ্ঞান কিংবা সমাজবিজ্ঞানের মতো কোনো আবশ্যিক বিষয়ে পাস করতে না পারে, তাহলেও বছর নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে না। বিকল্প হিসেবে বৃত্তিমূলক বা স্কিল সাবজেক্টের নম্বর দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করে দশমের গণ্ডি পার হওয়া যাবে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন নিয়ম।
বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে তারাই, যারা প্রথাগত পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে কর্মমুখী বা বাস্তবধর্মী দক্ষতায় বেশি আগ্রহী। তবে এই সুযোগ পেতে হলে পড়ুয়াদের নবম শ্রেণিতেই নির্দিষ্ট বৃত্তিমূলক বিষয় বেছে নিতে হবে। সিবিএসই-র তালিকাভুক্ত ২২টি স্কিল বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি নিয়ে পাস করলেই এই বিকল্প সুবিধার দরজা খুলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, অটোমোটিভ, ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটস, রিটেল, ডিজাইন থিংকিং কিংবা হেলথ কেয়ারের মতো আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয়গুলি এই তালিকায় রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত ‘কৌশল বিকাশ’ বিষয়টি এই নিয়মের বাইরে থাকছে।
জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখা মেনেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে বোর্ড। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের মূল বিষয় ও স্কিল বিষয় মিলিয়ে মোট ন’টি বিষয় পড়তে হবে।
বোর্ডের এক শীর্ষ আধিকারিক সূত্র জানা যায়, “শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুধু মুখস্থবিদ্যার বোঝা নামিয়ে বাস্তব জীবনের উপযোগী দক্ষতা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। যোগ্যতাভিত্তিক ও হাতে-কলমে শেখার অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যৎ জীবনের পথ অনেকটাই সহজ হয়।”
বর্তমানে সিবিএসই দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাস করার জন্য দুটি সুযোগ দেয়। সেই দুটি দফাতেও যদি কেউ কোনো একটি মূল বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারে, তখন এই স্কিল বিষয়টি সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। ফলে সে সহজেই একাদশ শ্রেণিতে ওঠার ছাড়পত্র পাবে। এখানেই শেষ নয়, স্কিল বিষয়ের ভরসায় পাস করার পরও যদি কোনো পড়ুয়া চায় যে সে তার অনুত্তীর্ণ মূল বিষয়টিতে ভালো ফল করবে, তবে পরবর্তীতে ‘ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা’ দেওয়ার সুযোগও খোলা থাকবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, মূল বিষয়ে না পাস করে একাদশে উঠলে পছন্দের শাখা মিলবে তো? সিবিএসই স্পষ্ট জানিয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী কোন শাখায় ভর্তি হবে, তা সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এ ব্যাপারে বোর্ডের তরফ থেকে কোনো কড়া বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে না। পড়াশোনার চিরাচরিত মানসিক চাপ কাটিয়ে পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট কার্যকরী হবে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা।




