স্পোর্টস ডেস্ক: সোনার পদক গলায় ওঠেনি। ফাইনালে হারতে হয়েছে চিনের প্রতিপক্ষের কাছে। কিন্তু তাতে ইতিহাস গড়ার আনন্দ একটুও ম্লান হচ্ছে না তানিয়ার। যুব অলিম্পিকের মঞ্চে নতুন এক খেলায় ভারতের হয়ে প্রথম পদক জিতে নজির গড়ল এই তরুণী কুস্তিগির। ডাকার যুব অলিম্পিকে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগের বিচ কুস্তিতে রুপো জিতে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে খুলে দিল নতুন দিগন্ত।
শনিবার ফাইনালে চিনের মিন ঝাওয়ের মুখোমুখি হয়েছিল তানিয়া। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ১-২ ব্যবধানে হার মানতে হয় ভারতীয় কুস্তিগিরকে। তবে প্রতিপক্ষ যে যথেষ্ট শক্তিশালী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২৫ সালে এথেন্সে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতার ৬৯ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছিল ঝাও। ফাইনালে জার্মানির আয়লা সাহিনকে ১৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল সে। এবার যুব অলিম্পিকেও সোনার পদক জিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিল চিনের কুস্তিগির।
তবে ফাইনালে ওঠার পথটা তানিয়ার কাছে ছিল একেবারেই দাপুটে। গ্রুপ পর্বের প্রথম লড়াইয়ে জার্মানির মিয়া বাউয়ারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে অভিযান শুরু করে সে। পরের ম্যাচে গ্রিসের ভাসিলিকি কারাভানুকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। শেষ গ্রুপ ম্যাচে এস্তোনিয়ার মেরিলি ভেস্টারের বিরুদ্ধে জয় আসে ৪-১ ব্যবধানে। পরপর তিনটি জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ চারে পৌঁছে যায় ভারতীয় কুস্তিগির।
সেমিফাইনালে অবশ্য কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল তানিয়াকে। প্রতিপক্ষ ছিলেন আমেরিকার মাতিল্ডা অ্যান হ্রুবি। চলতি বছরের আগস্টে আজারবাইজানের বাকুতে অনূর্ধ্ব-১৭ বিচ কুস্তি বিশ্ব প্রতিযোগিতার ৭৫ কেজি বিভাগে সোনা জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু তানিয়ার সামনে শেষরক্ষা হয়নি। ৩-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ভারত। ফলে সোনার স্বপ্নও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। শেষ লড়াইয়ে হারলেও রুপো নিয়েই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল সে।
ডাকারে চারটি জয় এবং একটি হার নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করল তানিয়া। এর আগে বাকুতে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতার ফ্রিস্টাইলের ৬৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিল সে। পোল্যান্ডের মাজা ভেইচানকে ১২-২ ব্যবধানে হারিয়ে সেই পদক পেয়েছিল।
তানিয়ার রুপোর সৌজন্যে যুব অলিম্পিকে ভারতের মোট পদকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি রুপো এবং ৪টি ব্রোঞ্জ। জুডোয় মহিলাদের ৬৩ কেজি বিভাগে রুপো জিতেছেন খুশবু দারজাদা। ব্যাডমিন্টনের মহিলাদের একক বিভাগে রুপো পেয়েছেন তন্বী পাত্রী। সাঁতার থেকেও এসেছে তিনটি পদক। মহিলাদের ১০০ ও ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ধিনিধি দেশিংহু। পুরুষদের ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ব্রোঞ্জ জিতে নজির গড়েছেন তীর্থঙ্ক পেগু। যুব অলিম্পিকে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় পুরুষ সাঁতারু তিনিই। উশুর মহিলাদের চাংকুয়ান বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন রাজকুমারী লানচেনবি চানু।
সব মিলিয়ে ডাকারে ভারতের পদক অভিযান আরও উজ্জ্বল করে দিল তানিয়ার সাফল্য। বিচ কুস্তি এই প্রথম যুব অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর সেই নতুন খেলাতেই প্রথম ভারতীয় হিসেবে পদক জয়ের কৃতিত্ব এখন তানিয়ার। সোনা না জিতেও তাই তাঁর রুপোর ঝলক আলাদা।




