মালদা, নিউজ ডেস্ক : চিকিৎসার কারণে বহু মানুষ হাসপাতালে যান। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা করাতে এসে হাসপাতাল চত্বরে খাবারের দোকান গুলিতে খাবার খেতে হয়। তাই এই দোকান গুলির উপর নির্ভরশীল হন রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা। কিন্তু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার খাবারের দোকানগুলিতে আদেও কি মিলে সুস্বাস্থ্যকর খাবার। প্রশ্ন থাকে অনেকের মনেই। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তৎপর হল প্রশাসন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতাল। এই হাসপাতাল চত্বরে রয়েছে বহু খাবারের দোকান। সেই খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে এবার হাসপাতাল চত্বর সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালালে পৌরসভার ফুড সেফটি বিভাগ। হাসপাতালের সামনে থাকা একের পর এক খাবারের দোকানে হানা দেন আধিকারিকরা। কোথায় কী রান্না হচ্ছে, কীভাবে খাবার রাখা হচ্ছে, রান্নার জায়গা কতটা পরিষ্কার খতিয়ে দেখা হয় সবটাই।
আচমকাই এই অভিযানে অনেকটাই বিপাকে পড়ে যান ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ ওঠে অভিযানে বেশ কয়েকটি দোকানে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হচ্ছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে না নিয়ম অনুসারে। কোথাও কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে ঠিকঠাক ভাবে খাবার ঢেকে রাখা হয়নি। রান্নার জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
যথাযথ নিয়ম না মানার ফলে একাধিক দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও জানা গিয়েছে। শুধু দোকান বন্ধের মাধ্যমেই এই অভিযান থেমে থাকে নি। যে সমস্ত দোকানে কিছুটা হলেও অনিয়ম দেখা গিয়েছে সেই সমস্ত দোকানদারদের করা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পৌর আধিকারিকদের পক্ষ থেকে। আগামী দিনে নিয়ম না মেনে যদি এই ভাবেই দোকান চালানো হয় তাহলে পুরোপুরি সেই সমস্ত দোকান বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয় ব্যবসায়ীদের।
পৌর প্রশাসনের কর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি করতে হবে। পরিছন্নতা বজায় রেখে সেই খাবার ঢেকে রাখতে হবে। বাসি খাবার কোনওভাবেই পরিবেশন করা যাবে না। সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ জায়গাটা সাধারণ কোনও বাজার এলাকা নয়। প্রতিদিন চিকিৎসার জন্য ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের অনেকেই হাসপাতালের আশপাশের দোকান থেকেই খাবার খান। ফলে হাসপাতাল চত্বরের খাবারের দোকানে সামান্য গাফিলতিও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার ফুড সেফটি অফিসার ডক্টর মুকুলিকা বাগচী জানান, হাসপাতাল চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকার খাবারের দোকানগুলিতে খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। কারণ হাসপাতাল চত্বর এলাকায় খাবারের দোকানের ওপর বহু মানুষ নির্ভরশীল। তাই সেই এলাকাতেই খাবারের গুণগতমান ও স্বাস্থ্যবিধি উপর কোনওরকম গাফিলতি মেনে নেওয়া যাবে না। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চালানো হবে।
এই অভিযান চলাকালীন হাসপাতাল চত্বর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। এর ফলে ব্যবসায়ীরাও সতর্ক হোন।
