নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: আর পাঁচটা দিনের মত মঙ্গলবার এর সকালটা ছিল না রাজধানীতে। রাজনৈতিক উত্তাপে সরগরম হয়েছে রাজধানীর রাজপথ। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান। নিশানায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। দাবি একটাই ছিল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিরোধীদের ইন্ডিয়া শিবিরের সাংসদরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেন। আর সেই মিছিল ঘিরেই কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় রাজধানীতে।
এই মিছিলে কাতারে, কাতারে মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিরোধী সাংসদদের হাতে দেখা যায় জ্ঞানেশ কুমারের কাটআউট। কোথাও তাঁকে আরএসএসের উর্দি পরানো ছবি, কোথাও আবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্টার। জানিস কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান ওঠে। ওঠে 'ভোট চোর', 'গাদ্দি চোর' স্লোগান। এছাড়াও ওঠে ‘ডেমোক্রেসি নট ফর সেল’-এর স্লোগানও।
মিছিল যত এগোতে থাকে ততই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপর পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছতেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু তাতেও হার মেনে নেননি বিরোধীরা। ব্যারিকেডের সামনে বসে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। একটা সময়ের পর রাহুল গান্ধি এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ব্যারিকেডের উপর উঠে দাঁড়ান। আর তাতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর আকাশবাণী ভবন চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করেন বিরোধী সাংসদরা। প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে পুলিশ একটি বাসে তুলে আটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস থেকে নেমে ফের বিক্ষোভে যোগ দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি এবং দীপেন্দর সিং হুডা আকাশবাণী ভবনের রিসেপশন গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের গাছের তলায় বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে তারা অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন। সেখানে বসে থাকার সময় তারা আকাশবাণী ভবনের সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, এবং অনেক অনুরাগী তাদের সাথে ছবিও তোলেন এমনও দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
বিরোধীদের মিছিল ঘিরে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছন এলাকার ডেপুটি কমিশনার সচিন শর্মা। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় চারিদিক। কিন্তু তাতেও বিরোধীদের আটকানো সম্ভব হয়নি পুরোপুরি ভাবে। নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল ইন্ডিয়া শিবিরের ১৯টি দল। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, ৬ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে নির্বাচন সদন অভিযান করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে বিরোধীরা একত্রিত হয়ে এই বিক্ষোভ সামিল হন।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।